সিলেট

‘ফারজানা-মাহমুদ ভিলা’ চোখের জলে ভাসছে

সিলেট, ১১ মার্চ – চারদিকে শোকের মাতম, আহাজারি আর চোখের জল। ‘ফারজানা-মাহমুদ ভিলা’ নামক বাড়িটি আজ রোনাজারিতে ভারি। গভীর শোকে স্তব্ধ সবকিছু।

সিলেট-৩ আসনে টানা তিন বারের বিজয়ী এমপি, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) বেলা ২টা ৪০ মিনিটের সময় ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন।

এদিকে, সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুর খবর মুহুর্তে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর জন্মস্থান ফেঞ্চুগঞ্জসহ সিলেট-৩ আসনের দক্ষিণ সুরমা ও বালাগঞ্জে। খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন দলীয় নেতাকর্মী ও প্রতিবেশীরা। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই সামাদ চৌধুরীর ‘ফারজানা-মাহমুদ ভিলা’ নামক বাড়িতে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ এসে ভিড় জমাতে থাকেন। এছাড়াও ছুটে আসেন এ তিন উপজেলা পরিষদের সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনের লোকজন এবং সাংবাদিকসহ সকল স্তরের মানুষ।

আরও পড়ুন : এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী আর নেই

সামাদ চৌধুরী কয়েসের মরদেহ শুক্রবার সকাল ১১টায় হেলিকপ্টারযোগে তাঁর ফেঞ্চুগঞ্জস্থ নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ও তাঁর দেয়া হেলিকপ্টারে মরদেহ ফেঞ্চুগঞ্জে আসবে। পরে শুক্রবার বিকেল ৫টায় ফেঞ্চুগঞ্জ কাশিম আলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

মৃত্যুর পর মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের মরদেহ রাজধানী ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে গোসল দেয়ানো হয়। পরে মরদেহ রাখা হয় ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)-এর হিমাগারে। সেখান থেকে সরাসরি নিয়ে আসা হবে ফেঞ্চুগঞ্জে।

মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী জুলহাস আহমদের বরাত দিয়ে দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুসিক জানান, তাঁকে গত রোববার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি সোমবার সকালে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। বিকালে ফলাফল পজিটিভ আসে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে এমপিকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়।

বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি। গত রোববার তিনি ঢাকা যাওয়ার পথে বিমানের মধ্যেই অসুস্থ অনুভব করায় সেখান থেকে সরাসরি তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে এ সংসদ সদস্য করোনার টিকা নেন। তারপর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিলো না। কয়েক দিন আগেও তাঁর নির্বাচনি এলাকার দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।

মৃত্যুকালে সামাদ চৌধুরীর বয়স ছিলো ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী ও ১ পালকপুত্র রেখে গেছেন।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ নিয়ে সিলেট-৩ আসন গঠিত। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী বিগত তিন জাতীয় নির্বাচনে হ্যাটট্রিক জয়ী হন।

গত (২০১৮ সালের) নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৮৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শফি আহমদ চৌধুরী পান ৮৩ হাজার ২৮৮ ভোট।

এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে মাহমুদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আর ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ৯৭ হাজার ৫৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শফি আহমদ চৌধুরী ৫৪ হাজার ৯৫৫ ভোট পেয়েছিলেন।

এছাড়া ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন।

সূত্র : সিলেটভিউ২৪
এন এইচ, ১১ মার্চ


Back to top button
🌐 Read in Your Language