জাতীয়

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কত হচ্ছে? দ্বিতীয় বৈঠকে বসছে মজুরি বোর্ড

ঢাকা, ০৮ নভেম্বর – দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্পের শ্রমিক ও কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি নতুন করে নির্ধারণের লক্ষ্যে কাল সোমবার (৯ নভেম্বর) সকাল ১১টায় ঢাকায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সভাকক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকে বসছে বোর্ড। আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামোর লিখিত প্রস্তাব পেশ করতে যাচ্ছে শ্রমিকপক্ষ। তবে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে এখনো নিজেদের প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে পারেনি মালিকপক্ষ।

বোর্ডের আলোচ্যসূচি ও প্রস্তুতির চিত্র

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগের সভায় উভয় পক্ষকে নতুন মজুরি কাঠামোর লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল মজুরি বোর্ড। সেই অনুযায়ী আজকের সভায় শ্রমিকদের পক্ষে মজুরির দাবি পেশ করা হবে।

আগামীকালের সভার মূল আলোচ্যসূচিতে রয়েছে:

  • গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের পৃথকভাবে নতুন মজুরি হারের লিখিত প্রস্তাব দাখিল।
  • গার্মেন্টস শিল্পে নিযুক্ত সব শ্রেণির শ্রমিক ও কর্মচারীর নিম্নতম মজুরি হারের সুপারিশ প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা।

শ্রমিকপক্ষের দাবি: ৩০ হাজার টাকা বা তার বেশি

মজুরি বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আখতার জানিয়েছেন, আগামীকালের সভায় উপস্থাপনের জন্য তাঁরা বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সুপারিশগুলো নিয়ে একটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কাজ করছেন।

তিনি বলেন, “প্রস্তাবিত ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা হতে পারে, যা শ্রমিকদের বর্তমান দাবি; কিংবা এর চেয়েও বেশি হতে পারে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি এবং পোশাকশিল্পের সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনা করেই মজুরির এই চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ধারণ করা হচ্ছে।”

চিন্তিত মালিকপক্ষ, প্রস্তাব জমা দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

অন্যদিকে, বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধ থাকা এবং চলমান অস্থিরতা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন রয়েছে মালিকপক্ষ। মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন জানান, তাঁরা সভার প্রস্তুতি নিলেও নিজেদের প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, “আলোচনার পর আমাদের প্রস্তাব জমা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। সেটি সোমবার জমা দেওয়া হতে পারে, আবার না-ও হতে পারে।”

দেশজুড়ে সবার নজর বৈঠকের দিকে

গার্মেন্টস খাতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই মজুরি বোর্ডের বৈঠকটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে ৩০ হাজার টাকা সর্বনিম্ন মজুরির দাবিতে অনড় শ্রমিকরা, অন্যদিকে শিল্পের খরচ ও নিরাপত্তার অজুহাতে মালিকপক্ষের দ্বিধা। সব মিলিয়ে সোমবারের এই বৈঠকে বোর্ডের টেবিলে কী প্রস্তাব আসে এবং শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয় পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ, সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা দেশ।

এনএন/ ০৮ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language