যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষায় বড় ধাক্কা: বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর হলো ভিসার আর্থিক শর্ত

লন্ডন, ৩০ অক্টোবর – যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসার আর্থিক শর্ত আরও কঠোর করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। আগামী ৩০ নভেম্বর, ২০২৬ থেকে যুক্তরাজ্যে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় (মেইনটেন্যান্স ফান্ড) মেটানোর জন্য আগের চেয়ে বেশি ব্যাংক জমার প্রমাণ দেখাতে হবে। লন্ডন ও লন্ডনের বাইরের—উভয় অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যই এই নিয়ম প্রযোজ্য হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর (হোম অফিস) সূত্রে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামঞ্জস্য রেখেই এই আর্থিক শর্ত বাড়ানো হয়েছে।
লন্ডন ও লন্ডনের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন হার
নতুন এই নিয়মের ফলে শিক্ষার্থী ভেদে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত অর্থ প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে:
লন্ডনের ভেতরের বিশ্ববিদ্যালয়: বর্তমানে লন্ডনে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মাসিক জীবনযাত্রার ব্যয় বাবদ ১,৫২৯ পাউন্ড (সর্বোচ্চ ৯ মাসের জন্য ১৩,৭৬১ পাউন্ড) দেখাতে হতো। ৩০ নভেম্বর থেকে মাসিক এই অঙ্ক বেড়ে ১,৫৭০ পাউন্ড হচ্ছে। অর্থাৎ ৯ মাসের কোর্সের জন্য মোট ১৪,১৩০ পাউন্ড দেখাতে হবে, যা আগের চেয়ে ৩৬৯ পাউন্ড বেশি।
লন্ডনের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়: বর্তমানে লন্ডনের বাইরের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসের জন্য ১,১৭১ পাউন্ড দেখাতে হয়। নতুন নিয়মে তা বাড়িয়ে মাসিক ১,২০৩ পাউন্ড করা হয়েছে। ফলে ৯ মাসের জন্য সর্বোচ্চ ১০,৫৩৯ পাউন্ডের স্থলে ১০,৮২৭ পাউন্ড দেখাতে হবে, অর্থাৎ অতিরিক্ত ২৮৮ পাউন্ড বেশি সংস্থান রাখতে হবে।
টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচ কি এর বাইরে?
বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন যে, জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত এই অর্থের পরিমাণ সম্পূর্ণ আলাদা। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের একদিকে যেমন কোর্স ফি পরিশোধের সক্ষমতা দেখাতে হবে, অন্যদিকে থাকা-খাওয়া ও জীবনযাত্রার খরচের এই ফান্ডও আলাদাভাবে ব্যাংকে দেখাতে হবে।
এছাড়া অভিবাসন আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ‘মরগান স্মিথ’-এর আইনজীবীরা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ভিসার আবেদন ফি এবং ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জ (IHS)—এই খরচগুলো সম্পূর্ণ আলাদা। ফলে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সামগ্রিক বাজেট তৈরির সময় এসব বিষয়ও মাথায় রাখতে হবে।
ব্যাংক ব্যালেন্স প্রদর্শনের কঠোর নিয়ম
ভিসা আবেদন সফল করতে শিক্ষার্থীদের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়:
টানা ২৮ দিনের হিসেব: ভিসার আবেদন করার আগে এক শিক্ষাবর্ষের টিউশন ফি এবং জীবনযাত্রার নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবে টানা অন্তত ২৮ দিন জমা থাকতে হবে।
২৮ দিনের ডেডলাইন: এই ২৮ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখটি ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের আগের ৩১ দিনের মধ্যে হতে হবে।
কার অ্যাকাউন্ট গ্রহণযোগ্য? এই অর্থ শিক্ষার্থী নিজে বা তার বাবা-মায়ের ব্যাংক হিসাবে থাকতে পারে। এছাড়া সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাঋণ কিংবা অফিশিয়াল ফিন্যান্সিয়াল স্পনসরশিপের মাধ্যমেও এই শর্ত পূরণ করা সম্ভব।
তবে যেসব শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে বৈধ অভিবাসন অনুমতি নিয়ে আবেদন করার তারিখের ঠিক আগের অন্তত এক বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন, তাদের সাধারণত এই নতুন আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হয় না।
আগামী ৩০ নভেম্বর বা তার পর যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই নতুন এই আর্থিক অংক ও ২৮ দিনের নিয়মের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
এনএন/ ৩০ অক্টোবর ২০২৬







