ইরান সংঘাত ও মার্কিন রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ: ট্রাম্প ও ওবামার মুখোমুখি অবস্থান

ওয়াশিংটন, ২৯ অক্টোবর – আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন। ওহাইও ও জর্জিয়া—দুই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে পাল্টাপাল্টি প্রচারণায় মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। ওমানের মধ্যস্থতায় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে সংকট তৈরি হয়। এই সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা এবং তা থেকে সৃষ্ট পরিণতি নিয়ে দুই রাষ্ট্রনেতার বক্তব্য মার্কিন রাজনীতির প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
ওহাইওতে ট্রাম্পের যুক্তি ও দাবি:
ওহাইও অঙ্গরাজ্যের চিলিকোথে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার গৃহীত সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই গান:
যুদ্ধ শুরুর দায় অস্বীকার: ট্রাম্প দাবি করেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র শুরু করেনি। তিনি ক্ষমতায় আসার বহু আগেই এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের অবসান হওয়া উচিত ছিল।
ইরানের সামরিক শক্তির ক্ষয়: ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরায়েলি অভিযানের ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আগের চেয়ে বহুলাংশে কমে গেছে।
ড্রোনের উৎপাদনে স্থবিরতা: বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে বর্তমানে ইরানের ড্রোন নির্মাণ কারখানাগুলো কার্যক্রম চালাতে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আটলান্টায় ওবামার ক্ষুরধার সমালোচনা:
জর্জিয়ার আটলান্টার কাছে মরো শহরে নির্বাচনী প্রচারণায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ট্রাম্পের এই যুদ্ধনীতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দিয়েছে:
কূটনীতি বনাম যুদ্ধ: ওবামা স্মরণ করিয়ে দেন যে, তার মেয়াদে ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির (JCPOA) মাধ্যমে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র না ছুড়েই সফল কূটনৈতিক পন্থায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের ঝুঁকি: ওবামার মতে, সামরিক অভিযানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও মিত্রদেশগুলো পাল্টা হামলার শিকার হয়েছে, যাতে মার্কিন নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটেছে এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
অস্ত্রের ঘাটতি ও জ্বালানি সংকট: দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক অস্ত্রের মজুত (বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র) আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। একই সাথে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেয়ে ইরান তেলের আন্তর্জাতিক বাজার অস্থিতিশীল করে তুলেছে, যার ফলে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
এনএন/ ২৯ অক্টোবর ২০২৬







