ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর হুমকি ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন, ২৮ অক্টোবর – কখনো কানাডা, কখনো গ্রিনল্যান্ড কিংবা পানামা খালের ওপর আধিপত্য বিস্তারের উচ্চাভিলাষী মন্তব্য—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ভূরাজনৈতিক দাবি যেন থামছেই না। এবার তাঁর প্রধান নজর দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলার দিকে। দেশটির সঙ্গে সম্প্রতি হওয়া তেল চুক্তির ভূয়সী প্রশংসা করতে গিয়ে ভেনেজুয়েলাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর বিস্ফোরক সম্ভাবনার কথা বলেছেন তিনি।
টেক্সাসের সমাবেশে ট্রাম্পের হুংকার
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টিতে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে ভেনেজুয়েলার তেল চুক্তি নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় বন্দরের উপকূলে নোঙর করা একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, ওই জাহাজে ভেনেজুয়েলা থেকে সরাসরি আমদানিকৃত ১০ লাখ ব্যারেল তেল রয়েছে।
সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, “ভেনেজুয়েলা খুব শিগগিরই একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে। এমনকি, হয়তো খুব দ্রুতই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হয়ে যেতে পারে। এই সম্ভাবনাকে কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”
ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের চুক্তিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেলবিজয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প জানান, এই তেল যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসতে মার্কিন করদাতাদের কোনো অর্থই খরচ করতে হয়নি।
পটভূমি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক আকস্মিক সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে হটিয়ে মার্কিন বাহিনী তাকে তুলে নিয়ে যায়। এর পরপরই দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে তেল বাণিজ্যের চুক্তি করে ওয়াশিংটন। তবে এই চুক্তির কঠোর সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেয়ে দেশটির তেল সম্পদ লুণ্তন ও নিয়ন্ত্রণে বেশি আগ্রহী ট্রাম্প প্রশাসন।
আসন্ন আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দেশের বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন তিনি। এমন সংকটপূর্ণ সময়ে ভেনেজুয়েলার তেল চুক্তিকে নিজের বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে ভোটারদের সামনে তুলে ধরে জ্বালানির দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের পূর্ববর্তী বিতর্কিত ভূখণ্ডগত দাবি
ভেনেজুয়েলাকে নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন হলেও ভূখণ্ড দখল বা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উচ্চাভিলাষী হুংকার তাঁর জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও তিনি একাধিকবার প্রতিবেশী দেশ কানাডাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এ ছাড়া ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার তীব্র আগ্রহ প্রকাশ এবং কৌশলগত পানামা খালের ওপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার জোরালো দাবিও তুলেছিলেন। ট্রাম্পের এসব সাম্রাজ্যবাদী ও আগ্রাসী মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট দেশ ও অঞ্চলের নেতারা।
এনএন/ ২৮ অক্টোবর ২০২৬







