আইন-আদালত

সাগর-রুনি হত্যা মামলা: হাইকোর্টে আজ গুরুত্বপূর্ণ আদেশ, ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান কি ঘটবে?

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর – সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সের কার্যক্রম এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আদেশ দেবেন হাইকোর্ট। দীর্ঘ ১৪ বছর পার হয়ে গেলেও বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ না দেখায় আদালতের আজকের আদেশের দিকে দেশবাসীর নজর রয়েছে।

বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের আজকের কার্যতালিকায় রিট আবেদনটি এক নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।

আদালতে শুনানি করবেন যারা

রিটকারীর পক্ষে: জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ (হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে)।
নিহত রুনির পরিবারের পক্ষে: জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির।

র‍্যাব থেকে টাস্কফোর্স: তদন্তের দীর্ঘ পথ পরিক্রমা

মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংস্থার হাত পরিবর্তন হলেও চূড়ান্ত ফল মেলেনি। গতিপথ সংক্ষেপে:

২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর: র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‍্যাব) এই মামলার তদন্তভার থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সাথে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

সময় আবেদন: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাস্কফোর্স তদন্ত সম্পন্ন করতে না পারায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে কয়েক দফায় সময়সীমা বাড়ানো হয়।

আজকের অবস্থান: প্রতিবেদন দাখিলে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি না হওয়ায় বিষয়টি আবারও হাইকোর্টের আদেশের জন্য কার্যতালিকায় উঠে এসেছে।

ফিরে দেখা: ২০১২ সালের সেই বিভীষিকাময় রাত

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন সকালে তাদের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হলে সারা দেশে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।

ঘটনার পর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন রুনির ভাই নওশের আলী রোমান। প্রথমে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ, পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং শেষপর্যন্ত হাইকোর্টের নির্দেশে র‍্যাব দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় তদন্ত চালায়। কিন্তু বহুবার সময় নিয়েও কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি কোনো সংস্থাই।

১৪ বছর ধরে বিচার পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে থাকা রুনির পরিবার ও সাংবাদিক সমাজের জন্য আজকের হাইকোর্টের এই দিকনির্দেশনা ও আদেশকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এনএন/ ২৭ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language