মোহাম্মদপুরে মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও চাঁদা দাবি: ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যসহ ৬ জন কারাগারে

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর – রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মো. শরীফ নামে এক মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে এই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ তাদের মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। রোববার তাদের ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা:
এই মামলায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত ছয়জন হলেন:
- সার্জেন্ট আল মামুন (৩৯) – ডিজিএফআই সদর দপ্তর
- ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামান (৩১) – ডিজিএফআই
- সোহেল রানা (৩২) – আনসার সদস্য
- মুকুল গাজী (২৬) – বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাপ্রহরী
- মাহফুজুর রহমান (২২) – নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা
- জিয়াউল ইসলাম (৩৫) – লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানা
এছাড়া এই মামলায় সোনিয়া (৩০) ও ফনিরুল ওরফে মনিরুল (৪৫) নামের আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।
অপহরণ ও জিম্মি করার চাঞ্চল্যকর বিবরণ:
মামলার বাদী ও শ্যামলীর মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মো. শরীফ এজাহারে উল্লেখ করেন, পাশাপাশি বাসা হওয়ার সুবাদে আনসার সদস্য সোহেল রানার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। শনিবার সোহেল রানা একটি মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে তাঁকে চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি বাসায় নিয়ে যান।
ফাঁদ পাতা: ওই বাসায় সোনিয়া নামে এক নারী ছিলেন, যাঁকে সোহেল নিজের বোন বলে পরিচয় দেন। এরপর বাথরুমে যাওয়ার অজুহাতে সোহেল ঘর থেকে বেরিয়ে যান এবং মুহূর্তের মধ্যে মামলার অন্য আসামিরা সেখানে প্রবেশ করে শরীফকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন এবং তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
টাকা আদায় ও জিম্মি: জীবনের ঝুঁকি এড়াতে শরীফ ঘটনাস্থলেই তাঁদের নগদ ৭০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু এতেও ক্ষান্ত না হয়ে আসামিরা তাঁকে আরও মারধর করেন এবং পরিবারের সদস্যদের ফোন করে আরও টাকা আনতে বাধ্য করার জন্য আটকে রাখেন।
যেভাবে উদ্ধার পেলেন ব্যবসায়ী:
রোববার ভোর ৩টার দিকে আসামিরা ব্যবসায়ী শরীফকে ওই বাসা থেকে নামিয়ে একটি টয়োটা গাড়িতে তোলেন। পরে গাড়িটি শেরেবাংলা নগরে শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে রেখে আসামিরা চা পান করতে নামলে শরীফ সুযোগ বুঝে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশের টহল গাড়ি দেখতে পান এবং দ্রুত দৌড়ে গিয়ে পুলিশের সহায়তা চান।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, শিশু হাসপাতালের কাছে চেকপোস্টে ওই ব্যবসায়ী পুলিশের সহায়তা চাইলে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখে অপহরণের সত্যতা নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়, কারণ মূল অপরাধটি মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় সংঘটিত হয়েছিল।
সেনাসদরের হস্তক্ষেপ:
গ্রেপ্তারের পর আটকদের মধ্যে ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যের উপস্থিতি নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে সেনাসদর দপ্তরের কর্মকর্তারা থানায় এসে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করেন। এরপর অভিযুক্ত ছয়জনকেই এই অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এনএন/ ২৫ অক্টোবর ২০২৬







