ইস্তাম্বুলে নজিরবিহীন বৈঠক! মধ্যপ্রাচ্যের বহ্নিশিখা নেকাতে ইউরোপ ও ‘আর৪’ জোটের ৮ বিশ্বনেতা এক টেবিলে

ইস্তাম্বুল, ২৪ অক্টোবর – মধ্যপ্রাচ্যের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি যখন আঞ্চলিক সীমানা পেরিয়ে গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে, ঠিক তখনই তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আয়োজিত হলো এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন পরাশক্তি সম্মেলন। বসফরাস প্রণালির মনোরম তীর ঘেঁষে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ চার পরাশক্তি এবং সদ্য গঠিত আঞ্চলিক শক্তি ‘আর৪’ (R4)-এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মুখোমুখি আলোচনায় বসেন।
বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল—সংঘাতের মারাত্মক বিস্তার রোধ করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল ধমনি হরমুজ প্রণালি, বাব আল-মান্দেব ও সুয়েজ খালে মুক্ত নৌ চলাচল পুনর্বাহাল করা এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের আগ্রাসনে বিপর্যস্ত সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা।
ইস্তাম্বুল ৮-দেশীয় কৌশলগত টেবিল
ইউরোপীয় পরাশক্তি (Europe 4)
- যুক্তরাজ্য (United Kingdom)
- ফ্রান্স (France)
- জার্মানি (Germany)
- ইতালি (Italy)
‘আর৪’ আঞ্চলিক শক্তি (R4 Group)
- তুরস্ক (Turkiye – আয়োজক)
- সৌদি আরব (Saudi Arabia)
- পাকিস্তান (Pakistan)
- মিসর (Egypt)
পরাশক্তিগুলোর অবস্থান ও আন্তর্জাতিক সামরিক তৎপরতা:
যুক্তরাজ্যের কড়া বার্তা (এড মিলিব্যান্ড): ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড স্পষ্ট উল্লেখ করেন যে, ইরানের কৌশলগত তৎপরতা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে মুক্ত নৌ চলাচলের অধিকার রক্ষায় কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি তিনি জানান, হুথি আক্রমণ মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সহায়তা করতে ইতোমধ্যে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য।
ফ্রান্সের সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণ: ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের এসব সংকট তৈরি না করেও দেশগুলো এর ভয়াবহ অর্থনৈতিক ফল ভোগ করছে। সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আকস্মিকভাবে সৌদি আরব সফর করে নিশ্চিত করেছেন যে, লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ ‘ইয়ানবু’ তেল টার্মিনাল সুরক্ষায় ফরাসি বাহিনী সরাসরি দায়িত্ব পালন করবে।
আয়োজক দেশ তুরস্কের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি (হাকান ফিদান): তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জোর দিয়ে বলেন—“স্থায়ী সমাধান কখনোই বাইর থেকে চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।”
আঞ্চলিক নিরাপত্তায় অভ্যন্তরীণ দেশগুলোকেই মূল নেতৃত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি আরও বলেন: ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি বিস্তার ও সহিংসতাকে ‘বসতি স্থাপনকারীদের সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আঁচ যেন আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে তুরস্কের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরেন।
সৌদি আরবের বৈশ্বিক ও অর্থনৈতিক সংকট:
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব চরম সংকটে পড়েছে। বিমানবন্দর বন্ধ রাখতে বাধ্য হওয়া, আন্তর্জাতিক মেগা বিনিয়োগ সম্মেলন স্থগিত করা এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যে ধস নামায় দেশটির অর্থনীতি ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন চরম পরীক্ষার মুখে।
এনএন/ ২৪ অক্টোবর ২০২৬







