জাতীয়

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্ন ফাঁস: ৫ সরকারি কর্মচারী গ্রেপ্তার, এসআরবি-৩ এর চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন

ঢাকা, ১৬ অক্টোবর – যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের বাছাই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে এনবিআর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল পদে কর্মরত সরকারি কর্মচারীরাও রয়েছেন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন। ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থীর ১০ অক্টোবরের এই পরীক্ষাটি শুরুর আগেই প্রশ্নফাঁস নিশ্চিত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তা স্থগিত করে এবং পরবর্তীতে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের পরিচয়:

রাজধানীর মতিঝিল, উত্তরখান, মিরপুর, সাভার ও মোহাম্মদপুর এলাকায় টানা অভিযানের পর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়:

১. এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫) — কম্পিউটার অপারেটর, এনবিআর।
২. জাহাঙ্গীর (৩৮) — কম্পিউটার অপারেটর, এনবিআর।
৩. নূর মোহাম্মদ (৩০) — অফিস সহায়ক, এনবিআর।
৪. আসাদুল ইসলাম (৩৩) — অফিস সহায়ক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
৫. মো. রুবেল ইসলাম (৩৩) — ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, পরিবেশ অধিদপ্তর।
৬. মো. মফিজুল ইসলাম (২৩) — চাকরিপ্রত্যাশী (পূর্বে ১৭ লাখ টাকা প্রতারিত হয়ে পরবর্তীতে চক্রে যোগ দেন)।
৭. মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২) — চক্রের সহযোগী।

ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে সূত্র থেকে প্রশ্ন: যেভাবে ছড়ায় উত্তরপত্র

ভোর ৪:৪৩ মিনিট: এনবিআর কর্মচারী নূর মোহাম্মদ একটি রহস্যময় সূত্রে প্রথম প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান।

সকাল ৬:১৫ মিনিট: অপর সদস্য জাহাঙ্গীর প্রশ্নপত্রের একদম স্পষ্ট ছবি নূর মোহাম্মদকে পাঠান।

উত্তর বিতরণ: নূর মোহাম্মদ দ্রুত সমাধান তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে পাঠান। পরবর্তীতে রুবেল, আসাদুল, মফিজুল ও সুজনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয়ে প্রার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

বিপুল পরিমাণ জালিয়াতির আলামত জব্দ

অভিযানের সময় চক্রটির কাছ থেকে প্রতারণা ও অর্থ লেনদেনের একাধিক বড় প্রমাণ জব্দ করা হয়:

জব্দকৃত বস্তু: প্রশ্নপত্রের ১ সেট, ১০০ টাকার ১১৬টি ও ৫০ টাকার ৪টি খালি স্ট্যাম্প, ৪৯টি ব্যাংক চেক পাতা, ১৯ পাতা প্রবেশপত্র, ২৫টি মূল সনদপত্র, ৬টি এনআইডি, ৮টি মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা।

“গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎস এবং এর নেপথ্যে থাকা অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।” — লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন, অধিনায়ক (এসআরবি-৩)।

এনএন/ ১৬ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language