হুমকির কারণে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে বোমারু বিমান সরিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ০৬ অক্টোবর-কিছু ‘হুমকির’ কারণে যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে নিজেদের বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পেন্টাগন গত রোববার নিশ্চিত করেছে, এই ঘাঁটিতে থাকা প্রায় এক ডজন বি-ওয়ান বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নেব্রাস্কার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘হুমকি’ সম্পর্কে জানত, যা তাদের বার’ প্রশংসা করে গত সপ্তাহে ট্রাম্পের করা মন্তব্যের দিকেও ইঙ্গিত করেছেন তিনি। ট্রাম্পের মন্তব্য মার্কিন গণমাধ্যমের সেই প্রতিবেদনকে সমর্থন করে বলেই মনে হচ্ছে, যেখানে বলা হয়েছিল, ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর নতুন হুমকির কারণেোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নিতে তৎপর করেছে।
যদিও এর আগে সোমবার, নম্বর ১০-এর (ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) একজন মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেছেন, আরএএফ ফেয়ারফোর্ড নিরাপদ।
এই ঘাঁটির বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ‘পুলিশ, প্রতিরক্ষা এবং সুরক্ষা সেবার’ প্রশংসা করে গত সপ্তাহে ট্রাম্পের করা মন্তব্যের দিকেও ইঙ্গিত করেছেন তিনি। ট্রাম্পের মন্তব্য মার্কিন গণমাধ্যমের সেই প্রতিবেদনকে সমর্থন করে বলেই মনে হচ্ছে, যেখানে বলা হয়েছিল, ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর নতুন হুমকির কারণে বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ওই ঘটনায় বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি ‘সন্দেহজনক যানবাহন’ সম্পর্কে পুলিশকে সতর্ক করা যুক্তরাষ্ট্র বিমানঘাঁটি থেকে তার বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নিয়েছে কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা মনে করি এটিুকে পাকড়াও করব এবং পরাজিত করব। কিন্তু আমরা কেন তাদের সেখানে ফেলে রাখব? তাই আমরা সেগুলোকে একটু অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়েছি। খুব দূ হয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কোনো ‘নির্দিষ্ট হুমকির’ কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিমানঘাঁটি থেকে তার বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নিয়েছে কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা মনে করি এটি বলা যায়। এগুলো তো আর দুর্ঘটনাক্রমে উড়ে যায়নি।’
‘কিছু হুমকি ছিল। শত্রুকে উসকানি না দিয়ে বরং আমরা শত্রুকে পাকড়াও করব এবং পরাজিত করব। কিন্তু আমরা কেন তাদের সেখানে ফেলে রাখব? তাই আমরা সেগুলোকে একটু অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়েছি। খুব দূরে নয়।’
তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন ‘যারা হুমকিটি তৈরি করেছিল, তাদের আসলে চেনে’, তবে তিনি কারও নাম নিশ্চিত করেননি।
তবে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার পেছনে কী ধরনের হুমকি রয়েছে, সে বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। যদিও ওয়াশিংটনের সূত্রগুলো বিবিসিকে অনুমান করে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে শত্রুতা আবার শুরু হলে সংবেদনশীল ও ব্যয়বহুল বিমানগুলোতে অন্তর্ঘাত (স্যাবোটাজ) বা আঘাত হানার চেষ্টার সঙ্গে এটি জড়িত থাকতে পারে।
হোয়াইট হাউসের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র গত বছর জুনে পাঁচটি রুশ ঘাঁটিতে ইউক্রেনের গোপন ড্রোন হামলা—‘অপারেশন স্পাইডারওয়েব’-এর দিকে ইঙ্গিত করে বলেছে, শত্রু বাহিনী দূর থেকেও এমন কিছু করতে পারে।
সূত্রটি বলেছে, ‘তারা যেভাবেই পরিকল্পনা করুক না কেন, বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে।’
অবশ্য ট্রাম্প এবং এর আগে ভ্যান্সের মন্তব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিওর মন্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি বিপরীত।
ট্রাম্প ও ভ্যান্স দুজনই একটি নির্দিষ্ট হুমকির দিকে ইঙ্গিত করলেও রুবিও তার ভাষা ব্যবহারে বেশ সতর্ক ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন, সামরিক ইউনিট ও সামরিক সরঞ্জাম বিশ্বজুড়ে স্থানান্তর করার ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
এদিকে গ্লুচেস্টারশায়ারের কটসওল্ডসে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ ইউনিটের তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে প্রাথমিকভাবে পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একজন ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিক ষষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে গ্রেফতার হন এবং জামিনে মুক্তি পান।
প্রথম পাঁচ ব্যক্তির মুক্তির পর ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন এবং মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দেন, এই ঘটনার সঙ্গে ইরান জড়িত থাকতে পারে।
হোয়াইটহলের সূত্রগুলো এ কথা অস্বীকার করেনি যে, ওয়াশিংটনের বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি গ্লুচেস্টারশায়ারের বিমানঘাঁটিতে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রতিক্রিয়াতেই নেওয়া হয়েছে। যদিও সোমবারের আগে বক্তব্য দেওয়ার সময় রুবিও বলেন, তিনি গত সপ্তাহের ঘটনাটিকে সরাসরি আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত করবেন না।
তিনি আরও বলেন, ‘মহড়া, পুনর্বিন্যাস, কর্মী পরিবর্তন এবং নতুন কর্মী আসা, নতুন বিমান আসা ও পুরোনো বিমান চলে যাওয়া—বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সম্পদের এই ধরনের স্থানান্তর অস্বাভাবিক কিছু নয়।’
রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটির নিরাপত্তার ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং ঘটনার পর থেকে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করেছে।
ভ্যান্স পরে বলেন, ‘অতিরিক্ত সতর্কতার’ অংশ হিসেবে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তিনি যোগ করেন, ওয়াশিংটন মনে করছে, ইরান গত ৪৯ বছর ধরে যা করে আসছে—অর্থাৎ ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আরও অনেক মানুষের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া’—তাই করছে।
আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের ঘটনার কয়েকদিন পর প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, এই ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা থাকার ‘শক্তিশালী ইঙ্গিত’ রয়েছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
অন্যদিকে রুবিও বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে বলেছেন, এর সঙ্গে ‘স্পষ্টতই বিদেশি কোনো পক্ষের হাত রয়েছে।’ যদিও এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে তেহরান।
গত জুলাই মাসে ইরান বলেছিল, ‘ইরানি ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের জন্য ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি আমাদের বাহিনীর জন্য একটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু।’
ওয়েলফোর্ড গ্রামের কাছে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ফরোয়ার্ড অপারেটিং লোকেশন (অগ্রবর্তী পরিচালন ঘাঁটি) হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এটি ব্যবহারের অনুরোধ অনুমোদন করার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এই ঘাঁটি থেকে বি-ওয়ান ও বি-৫২ বোমারু বিমান উড়িয়েছে।
রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের প্রতিরক্ষা গবেষণা বিশ্লেষক ক্রিস্টোফ বার্গস বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে এই পুনর্বিন্যাস ইরানের বিরুদ্ধে ‘দ্রুত অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে মার্কিন সক্ষমতায় প্রভাব ফেলবে, যা হুমকির মাত্রাকে কিছুটা কমিয়ে দেবে।’
বার্গস যোগ করেন, মাঝ আকাশে জ্বালানি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমাতে বিমানগুলোকে দিয়েগো গার্সিয়া বা উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো ঘাঁটিতে পাঠানো হতে পারে। তবে তা নির্ভর করবে ধারণক্ষমতা, মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা এবং নিরাপত্তার ওপর।
এস এম/ ০৬ অক্টোবর ২০২৬







