জাতীয়

সবার জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিতের তাগিদ রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ঢাকা, ০৪ অক্টোবর-রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সবার জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

আগামীকাল ‘বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আজ দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

তিনি জানান, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬’ পালনের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নগরগুলো শুধু নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন মানুষের বসবাসের জায়গা নয়। সারা বিশ্বেই নগরগুলো কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও উদ্ভাবনের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তাই পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ টেকসই উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের নগর অঞ্চলগুলোতে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ, যানজট, তীব্র দূষণ এবং অপর্যাপ্ত ও মানহীন আবাসনের মতো নানা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এ বাস্তবতায় এ বছরের বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা হলো নিরাপদ, সাশ্রয়ী, দূষণমুক্ত, পর্যাপ্ত ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন। দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ভূমির উচ্চমূল্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে আবাসন সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই আবাসন সংকট আরও বেশি প্রকট।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সবার জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। তাই নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর উন্নয়ন ও সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য আবাসন কর্মসূচি, জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো নির্মাণ, নিরাপদ ভবন নির্মাণবিধির যথাযথ পরিপালন, ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার, স্মার্ট ও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থায় সরকারের নেওয়া পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নাগরিক সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ কাজে সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি অংশীজন, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী, গবেষক ও তরুণ প্রজন্মের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সুপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের নগরাঞ্চলের বর্তমান ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাসযোগ্য ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নও পূরণ হবে।

রাষ্ট্রপতি ‘বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে নেওয়া সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

এস এম/ ০৪ অক্টোবর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language