শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরে বাণিজ্যযুদ্ধে দুই মাসের বিরতি

বেইজিং, ২৪ সেপ্টেম্বর- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিশ্ব রাজনীতি এবং তাইওয়ান ইস্যুকে কেন্দ্র করে যখন ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিরল সফর শুরু হয়েছে। সফর শুরুর পরপরই দুই পরাশক্তির মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধে সাময়িক বিরতির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক এবং টানা দ্বিপক্ষীয় আলোচনার আগে পূর্বে ঘোষিত শুল্ক স্থগিতাদেশের মেয়াদ দুই মাস বাড়ানো হয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ বাণিজ্য উত্তেজনা কমানো এবং নতুন করে কোনো বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। আগে দুই দেশের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য বিরতির মেয়াদ চলতি বছরের নভেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সমঝোতার কারণে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী বছরের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী নভেম্বরে চীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিরতিকে পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে রূপ দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হি লিফেংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষ হওয়ার পরই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বাণিজ্য চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি আর্থিক সেবা খাত এবং কৃষিপণ্য কেনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রেও নতুন সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তিন দিনের এই মার্কিন সফরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে যে উষ্ণ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, তা কূটনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা তৈরি করেছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর মার্কিন মাটিতে কোনো চীনা প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী হোয়াইট হাউসে অভ্যর্থনা জানানোর রীতি থাকলেও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে গিয়ে শি জিনপিংকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেন। একশত ফুট দীর্ঘ লাল গালিচার দুই পাশে সামরিক সম্মাননা বাহিনী, বিমানবাহিনীর বিশেষ মহড়া এবং ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে চীনা প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানো হয়। কূটনীতিবিদদের মতে, সমঝোতার ভিত্তি আরও শক্ত করতেই এ ধরনের বিশেষ প্রটোকল বা রাজকীয় আয়োজন করা হয়েছে।
তবে এই কৃত্রিম বন্ধুত্বের আড়ালে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মতপার্থক্য এখনো স্পষ্ট বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকেও বিরল খনিজ পদার্থ সরবরাহ এবং উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রাংশ রফতানিতে শিথিলতা আনার ঘোষণা দিয়ে বাণিজ্য যুদ্ধের তীব্রতা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। বাণিজ্যের পাশাপাশি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং তাইওয়ানের প্রতি চীনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও ওয়াশিংটন ও বেইজিং পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে। তা সত্ত্বেও সফরে পৌঁছে চীনা প্রেসিডেন্ট বিশ্বশান্তি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির অগ্রগতির স্বার্থে দুই দেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে সহযোগী হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এস এম/ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬







