ইউরোপ

গাজা যুদ্ধের অবসান নিয়ে জাতিসংঘে ট্রাম্পের সমালোচনা করলেন ম্যাক্রোঁ

জাতিসংঘে ট্রাম্পের সমালোচনা করলেন ম্যাক্রোঁ

প্যারিস, ২৩ সেপ্টেম্বর- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গাজা যুদ্ধের অবসান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির তীব্র সমালোচনা করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ট্রাম্প গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ঘোষিত সেই শান্তির পরও গাজায় এক মুহূর্তের জন্যও মানবিক সহেন্ডের জন্যও মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার পুনরায় চালু করতে পারেনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কি সবাই শুধু দাঁড়িয়ে থেকে এমন একটি পরিস্থিতি দেখবে, যা ‘আমাদেরনের উদ্যোগে যুদ্ধের অবসান হয়েছে। এতে ‘অসংখ্য’ মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প আরও বলেন, সব জীবিত জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং নিহত জিম্মিদের মরদেহওায়তার পথ পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘লজ্জার প্রদর্শনী’ বলে মন্তব্য করেছেন।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, এক বছর আগে একই মঞ্চে প্রায় এক ডজন দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তখন অনেকে বলেছিলেন, রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া শুধু কাগজের বিষয়, বাস্তব পরিস্থিতির পরিবর্তনই আসল। ম্যাক্রোঁ বলেন, গাজার পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিষ্ক্রিয় থাকলে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। তাঁর ভাষায়, কেউ কেউ কথিত শান্তির কথা বলছেন, কিন্তু সেই শান্তি গাজায় এক সেকেন্ডের জন্যও মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার পুনরায় চালু করতে পারেনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কি সবাই শুধু দাঁড়িয়ে থেকে এমন একটি পরিস্থিতি দেখবে, যা ‘আমাদের সবার জন্য লজ্জার’?

ম্যাক্রোঁর এই বক্তব্য আসে ট্রাম্পের ভাষণের কয়েক ঘণ্টা পর। একই মঞ্চে ট্রাম্প দাবি করেন, গত বছর গাজায় যুদ্ধ ভয়াবহভাবে চললেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাঁর প্রশাসনের উদ্যোগে যুদ্ধের অবসান হয়েছে। এতে ‘অসংখ্য’ মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প আরও বলেন, সব জীবিত জিম্মিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং নিহত জিম্মিদের মরদেহও স্বজনদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প তাঁর গাজা পরিকল্পনাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সর্বসম্মত সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর ২০ দ্যক্ত করেছে। মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ট্রাম্প ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ শেষ করেছেন, জীবিত সব জিম্মিকে মুক্ত করেছেন এবং নিহত জিম্মিদের মরদেহ স্বজনদের কাছে ফিরফা গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ‘বোর্ড অব পিস’ নেতৃত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

তবে ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের জবাবে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ট্রাম্প ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ শেষ করেছেন, জীবিত সব জিম্মিকে মুক্ত করেছেন এবং নিহত জিম্মিদের মরদেহ স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্প এখন গাজার ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য তাঁর প্রশাসনের মতো আর কেউ এত বেশি কাজ করেনি।

পশ্চিম তীর নিয়েও সতর্কতা

ভাষণে পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিও তুলে ধরেন ম্যাক্রোঁ। সেখানে প্রতিদিন ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন করেন, এসব কর্মকাণ্ড কার নামে হচ্ছে—কারণ পশ্চিম তীরে হামাস কখনো কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। ম্যাক্রোঁর মতে, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতার মতো কর্মকাণ্ড প্রতিদিন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলছে। তাঁর ভাষায়, ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্বের বৈধ অধিকারকে সম্মান করার ভিত্তিতে যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রকল্প থাকা উচিত, পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতি সেটিকেই ক্রমশ অসম্ভব করে তুলছে।

ফ্রান্স গত এক বছরে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান আরও কঠোর করেছে। দেশটি কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। এর আগে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও কানাডা পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছিল।

‘জঙ্গলের আইনে’ ফিরে যাওয়ার সতর্কতা

জাতিসংঘে নিজের শেষ ভাষণে ম্যাক্রোঁ বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়েও সতর্ক করেন। তিনি বলেন, বিশ্ব এমন এক পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে যেখানে শক্তি ও জবরদস্তিই নিয়ম নির্ধারণ করবে—নাকি আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি সভ্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা টিকে থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তিনি জাতিসংঘের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশ্বে দায়মুক্তির নতুন কোনো ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না। ভাষণের শেষে ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘দীর্ঘজীবী হোক জাতিসংঘ।’

এস এম/ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language