দক্ষিণ এশিয়া

ইমরান খানের তিন বোনের আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে লাহোর হাইকোর্টে আবেদন

ইমরান খানের তিন বোন

ইসলামাবাদ, ২২ সেপ্টেম্বর- পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তিন বোনকে ৩০ দিনের জন্য আটক রাখার আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের দ্রুত মুক্তির আবেদনও করা হয়েছে। সোমবার দাখিল করা ওই আবেদনে আটকাদেশ বাতিলের অনুরোধ জানানো হয়।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরান খানের বোন আলিমা খানের ছেলে শাহরাইজ খান আবেদনটি করেছেন। তিনি আদালতের কাছে তার মা এবং ইমরান খানের অন্য দুই বোনের বিরুদ্ধে জারি করা আটকাদেশ অবৈধ ঘোষণা করার আবেদন জানিয়েছেন।

এএনআই নিউজ জানায়, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর লাহোরের ডেপুটি কমিশনার জনশৃঙ্খলা রক্ষা অধ্যাদেশের ৩ নম্বর ধারায় ৩০ দিনের আটকাদেশ জারি করেন। এই আদেশে ইমরান খানের বোন আলিমা খান, উজমা খান ও নরিন নিয়াজিককে আটক করার ব্যবস্থা করা হয়। তাদের মধ্যে আলিমা খানকে এর আগেই আটক করা হয়েছিল। পরে সোমবার উজমা খান ও নরিন নিয়াজিককেও আটক করা হয়।

আবেদনে শাহরাইজ খান বলেন, লাহোরের ডেপুটি কমিশনারের জারি করা আটকাদেশ আইনসম্মত নয়। তার দাবি, আলিমা খানকে ব্যক্তিগত কাজে যাওয়ার সময় আটক করা হয়েছিল। ওই সময় জনশৃঙ্খলা বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন কোনো জনসমাবেশ বা পরিস্থিতি ছিল না। আবেদনে বলা হয়েছে, আলিমা খান ও তার গাড়িচালক মুহাম্মদ আমিরকে লাহোর সেন্ট্রাল জেলে রাখা হয়েছে। শাহরাইজ খান তার মাকে আইন মেনে চলা একজন নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, আলিমা খান কখনো এমন কোনো কাজে জড়িত ছিলেন না, যাতে জননিরাপত্তা বা জনস্বার্থের ক্ষতি হতে পারে।

আবেদনকারীর আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধীদের চাপ এবং পুলিশের মৌখিক পরামর্শের ভিত্তিতে স্থানীয় প্রশাসন এই আটকাদেশ জারি করেছে। তার দাবি, আটকাদেশের সরকারি নথিতে আলিমা খান, উজমা খান ও নরিন নিয়াজিকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি। আবেদনে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, লাহোরের ডেপুটি কমিশনার, লাহোর পুলিশের প্রধান এবং লাহোর সেন্ট্রাল জেলের কারা তত্ত্বাবধায়ককে বিবাদী করা হয়েছে।

ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের একের পর এক আটকের ঘটনায় তার ছেলে কাসিম খানও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি এসব ঘটনাকে ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ বলে অভিযোগ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কাসিম খান অভিযোগ করেন, তার খালা উজমা খান ও নরিন নিয়াজিক এবং তার চাচাতো ভাই শেরশাহ ও শাহরাইজ খানকে তাদের বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের কেন আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। কাসিম খান আরও বলেন, তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তার ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না এবং পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

পিটিআইয়ের ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সামনে রেখে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের এই আটকের ঘটনা ঘটল। আটকাদেশের বৈধতা নিয়ে করা আবেদনটি এখন লাহোর হাইকোর্টে বিচারাধীন।

এস এম/ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language