জাতীয়

হাট-বাজারের সরকারি জমি দখল করলেই স্পট ফাইন ও জেল: মোবাইল কোর্টের তফসিলে যুক্ত হলো নতুন আইন

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর – হাট ও বাজারের সরকারি খাস জমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের নৈরাজ্য বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে হাট-বাজারের জমি দখল বা অবৈধ স্থাপনা তৈরি করলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সরাসরি ‘মোবাইল কোর্ট’ বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচার ও শাস্তি কার্যকর করতে পারবেন। এই অপরাধ বিচারকাজের আওতায় আনতে ‘মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯’-এর তফসিলে নতুন আইন যুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

নতুন প্রজ্ঞাপন ও আইনি পরিবর্তন:

গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আইনি ক্ষমতা প্রদান করা হয়।

আইনের ধারা সংযুক্তকরণ: ‘মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯’-এর ১৫ ধারার ক্ষমতাবলে আইনের তফসিলে নতুন ক্রমিক নম্বর ১৩৩ যুক্ত করা হয়েছে। এই নতুন ক্রমিকে যুক্ত হয়েছে ‘হাট ও বাজার (স্থাপনা ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২৩’-এর ১২ নম্বর ধারা।

যে অপরাধ বিচারে মোবাইল কোর্ট বসবে: নতুন এই অন্তর্ভুক্তির ফলে এখন থেকে কোনো ব্যক্তি হাট-বাজারের সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখলে রাখলে, জমি দখল করে পাকা বা আধাপাকা স্থাপনা গড়ে তুললে কিংবা স্থাপনা নির্মাণের প্রাথমিক উদ্যোগ নিলেও ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে সেই অপরাধ বিচারে নিতে পারবে।

শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণ:

‘হাট ও বাজার (স্থাপনা ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২৩’-এর ১২ ধারা অনুযায়ী অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় দুই ধরনের বড় শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে:

কারাদণ্ড: অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১ (এক) বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড।

অর্থদণ্ড: অথবা সর্বোচ্চ ৫,০০,০০০ (পাঁচ লাখ) টাকা পর্যন্ত আর্থিক জরিমানা বা উভয় দণ্ড।

প্রভাব ও আইনি তাৎপর্য:

পূর্বে হাট-বাজারের খাস জমি দখলের ঘটনায় নিয়মিত মামলা পরিচালনা করা হতো, যা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগত এবং ততদিনে সরকারি জমি স্থায়ীভাবে দখলের সুযোগ সৃষ্টি হতো। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে কোনো অবৈধ দখলদারদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ আইনি জটিলতা ছাড়াই স্পট বিচারে কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড দেওয়া সম্ভব হবে, যা সরকারি খাস জমি সুরক্ষায় তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এনএন/ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language