জাতীয়

আমদানিনির্ভর জ্বালানির চাপ কমাতে মেগা উদ্যোগ: জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর – আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বাড়তি নির্ভরতা কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে বেসরকারি খাত (আইপিপি) থেকে প্রায় ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। বিশ্ববাজারের তুলনায় কম মূল্যে চুক্তি সম্পন্ন করার পাশাপাশি বাসাবাড়িতে ছাদভিত্তিক সোলার প্যানেল স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করায় জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে।

সাশ্রয়ী মূল্যে নতুন চুক্তি ও প্রণোদনা প্যাকেজ

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ইতোমধ্যেই ১২টি স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) সঙ্গে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

বিদ্যুতের নতুন দর: আইপিপি প্রকল্পগুলো থেকে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ টাকা ১২ পয়সা, যা আগের একই ধরনের প্রকল্পগুলোর তুলনায় প্রায় ২.৫ সেন্ট কম।

ছাদভিত্তিক সোলারে প্রণোদনা: ব্যাটারিসহ ছাদে স্থাপিত সোলার সিস্টেম থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বোচ্চ উৎপাদন ব্যয় ৮ টাকা ধরা হয়েছে। এর সাথে ২০% মুনাফা এবং ১১.২৫% প্রিমিয়াম যোগ করে ভোক্তা পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।

বৃহৎ সোলার প্রজেক্টগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান

১২টি প্রধান চুক্তিবদ্ধ প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বড় উৎপাদন সক্ষমতার কেন্দ্রগুলো নিম্নরূপ:

  • ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম| ২০০ মেগাওয়াট
  • ঈশ্বরদী, পাবনা ১৫০ মেগাওয়াট
  • কক্সবাজার (২টি কেন্দ্র) ২০০ মেগাওয়াট (১০০+১০০)
  • মোংলা, বাগেরহাট ১০০ মেগাওয়াট
  • ঈশ্বরদী (২য় কেন্দ্র) ৭০ মেগাওয়াট

(অন্যান্য ১০ থেকে ৫০ মেগাওয়াটের প্রকল্পগুলো মৌলভীবাজারের বিবিয়ানা ও সদর, নীলফামারীর জলঢাকা, চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং নোয়াখালীর সুধারামে স্থাপিত হবে।)

বর্তমান সক্ষমতা ও ২০৩০-৪০ এর মহাপরিকল্পনা

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১,৮৫২.০৬ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা রয়েছে (যার মধ্যে ১,৪৭৩.৫ মেগাওয়াট গ্রিড-সংযুক্ত)। ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অর্জনে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে:

স্বল্পমেয়াদি নির্দেশনা: বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে দেশের সকল জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে আগামী ৩ মাসের মধ্যে সোলার প্যানেল বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিপিডিবির নিজস্ব প্রকল্প: বিপিডিবি নিজ অর্থায়নে ২০৩০ সালের মধ্যে আরও ৬৮৯ মেগাওয়াট সোলার চালু করবে। পাশাপাশি রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ও ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াটের বড় প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।

জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা: জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিভিত্তিক সোলার থেকে ৫,৫০০ মেগাওয়াট এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আরও ৪৫০-৫৫০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদে ঘোষণা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০% এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০% নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করা হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ হাসান মেহেদীর মতে, ছাদভিত্তিক সোলারসহ নবায়নযোগ্য খাতকে এভাবে গতিশীল করা গেলে বিদেশি জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনই সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতে পারলে সরকারের বড় অঙ্কের বিনিয়োগও বেঁচে যাবে।

এনএন/ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language