জাতীয়

বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে ঐতিহাসিক সমঝোতার প্রস্তুতি

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর — দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে একযোগে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ও তুরস্ক। সম্প্রতি আঙ্কারায় তুরস্কের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতার নানাদিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে তুরস্কের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী আলপারস্লান বাইরাকতার (Alparslan Bayraktar)-এর হাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক। তুর্কি মন্ত্রী আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করে চলতি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন।

বৈঠকে আলোচিত মূল সিদ্ধান্ত ও সহযোগিতার ক্ষেত্রসমূহ

সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর: দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা সংক্রান্ত প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া হস্তান্তর করা হয়েছে। চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন তুর্কি মন্ত্রী।

সৌরশক্তি ও খনিজ উন্নয়ন: নবায়নযোগ্য বিশেষ করে সৌর শক্তি উৎপাদন এবং ভূগর্ভস্থ খনিজ সম্পদ যৌথভাবে অনুসন্ধান ও উত্তোলনে কারিগরি সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।

এলএনজি ও অবকাঠামো: তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়ন ও প্রাসঙ্গিক অবকাঠামোগত সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সমুদ্রগর্ভস্থ পাইপলাইন সংযোগ: বাংলাদেশের অফশোর বা দ্বীপাঞ্চলীয় স্থাপনা থেকে মূল ভূখণ্ডে নিরাপদ পাইপলাইন সংযোগ স্থাপনে তুর্কি প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়।

গভীর বিশ্লেষণ ও কূটনৈতিক তাৎপর্য

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের বাজারে তুরস্কের মতো প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত দেশের সাথে এলএনজি পরিবহন, অফশোর পাইপলাইন এবং সৌরশক্তির মতো খাতে ‘উইন-উইন’ অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। একইসাথে দুই বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে।

এনএন/ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language