ইউরোপ

শীতকাল পর্যন্ত যুদ্ধ গড়ানোর আশঙ্কা জেলেনস্কির, মার্কিন দূতদের সাথে বৈঠক

জেলেনস্কির মার্কিন দূতদের সাথে বৈঠক

কিয়েভ, ৭ সেপ্টেম্বর – রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধ আগামী শীতকাল পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রোববার রাজধানী কিইভে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার বৈঠক শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মার্কিন দুই দূতের এই সফরে যুদ্ধ অবসানে বড় কোনো তাৎক্ষণিক অগ্রগতির ঘোষণা না এলেও কিইভ এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ বলে অভিহিত করেছে। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর উইটকফ ও কুশনারের এটিই প্রথম কিইভ সফর। এর আগের দিন তারা মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা করেন।

মার্কিন দূতরা জানান, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন। অতীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার যেসব উদ্যোগ সফল হয়নি, সেগুলো পর্যালোচনা করে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জনের পথ খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধ যদি শীতকাল পর্যন্ত গড়ায়, তবে ইউক্রেনের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও জ্বালানি সহায়তা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়বে।

তিনি উল্লেখ করেন, শীতকালীন মৌসুমে রুশ বাহিনী সাধারণত ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এসব হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন বর্তমানে মার্কিন প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। তবে জেলেনস্কি ভবিষ্যতে নিজস্ব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।

বৈঠকে একটি ন্যায্য শান্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, এমন কোনো চুক্তি গ্রহণযোগ্য হবে না যা ভবিষ্যতে রাশিয়ার জন্য পুনরায় আগ্রাসন চালানোর পথ তৈরি করে দেয়। এছাড়া তিনি ইউক্রেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাব করেন।

এদিকে দূতদের সফরের সময় কিইভ ও মস্কোতে বড় ধরনের হামলা স্থগিত রাখার বিষয়ে পুতিন ও জেলেনস্কি একমত হলেও দেশটির অন্যান্য অঞ্চলে সংঘাত অব্যাহত ছিল। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, রোববার রাতে রাশিয়া ১০৮টি ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

এস এম/ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button