হ্যারি-মেগানের ব্রিটেন প্রত্যাবর্তনে ট্রাম্পের স্বস্তি প্রকাশ

ওয়াশিংটন, ৩ সেপ্টেম্বর – যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে প্রিন্স হ্যারি ও তার পরিবারের ব্রিটেনে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে প্রকাশ্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘ ছয় বছর বসবাসের পর হ্যারি ও মেগানের ব্রিটেনে ফিরে যাওয়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়ে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, তিনি শুরু থেকেই এই রাজপরিবারের সমালোচক দম্পতির ভক্ত ছিলেন না।
তাদের এই দেশত্যাগে তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বস্তি বোধ করছেন বলে উল্লেখ করেন। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আয়োজিত এক সংলাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তারা আমেরিকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় আমি অত্যন্ত খুশি। আমি কখনোই তাদের অনুরাগী ছিলাম না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করে বলেন, রাজপরিবারকে যেভাবে হ্যারি ও মেগান অবমূল্যায়ন করেছেন তা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং বর্তমানে ক্যানসারে আক্রান্ত রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমার মনে হয়েছে তারা ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে অত্যন্ত অসংবেদনশীল ও অশ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ করেছেন, যা আমার একেবারেই পছন্দ হয়নি।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বিশেষ করে সাসেক্সের ডাচেস মেগান মার্কেলকে লক্ষ্য করে কড়া সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের মতে, মেগানের আচরণ এবং কর্মকাণ্ড মোটেও গ্রহণযোগ্য নয় এবং তিনি রাজপরিবারের প্রতি চরম অবমাননাকর আচরণ করেছেন। বক্তব্যে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন, তিনি যদি ব্রিটিশ রাজপরিবারের কোনো দায়িত্বে থাকতেন তবে কোনোভাবেই তাদের আর ফিরিয়ে নিতেন না।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব ও খেতাব ত্যাগ করে এই দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আগস্টের শেষের দিকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সপরিবারে ফের ব্রিটেনে প্রত্যাবর্তন করেন। আমেরিকায় থাকাকালীন এক সাক্ষাৎকারে হ্যারি ব্রিটিশ রাজপরিবারের বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ এনেছিলেন।
বর্তমানে ব্রিটেনে ফিরে আসলেও হ্যারি এবং মেগান রাজপরিবারের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা রাজকীয় দায়িত্বে ফিরছেন না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা তাদের দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি এবং প্রিন্সেস লিলিবেটকে নিয়ে লন্ডনের বাইরে কোনো নিরিবিলি স্থানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস করার পরিকল্পনা করছেন। হ্যারি একাধিকবার ব্যক্ত করেছেন যে, তিনি চান তার সন্তানরা নিজেদের মাতৃভূমি ব্রিটেনেই বেড়ে উঠুক।
এস এম/ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬







