জাতীয়

গ্যাস সংকট কাটাতে এলএনজি আমদানি ও অনুসন্ধানে গুরুত্ব সরকারের: বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেট, ১৫ আগস্ট – গ্যাস সংকটের ফলে দেশের কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বাস্তবতাকে স্বীকার করে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকার এই সংকট উত্তরণে কাজ করছে। দেশে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধিতে নতুন করে অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা, এলএনজি আমদানি বাড়ানো এবং নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সুফল পেতে নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন।

শনিবার দুপুরে সিলেট নগরের ধোপাদিঘীরপার এলাকায় আয়োজিত এক কৃষি বিষয়ক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রগুলো থেকে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। ফলে মোট সরবরাহ ক্ষমতা দৈনিক ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি। কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং শিল্প খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় এই সরবরাহ অর্ধেকেরও কম।

তিনি বলেন, অতীতে দীর্ঘ সময় গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম স্থবির থাকায় বর্তমান সংকট প্রকট হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুসন্ধান কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠান বাপেক্স এবং বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে। তবে নতুন খনির সন্ধান এবং সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলনের সুনির্দিষ্ট সময়কাল এখনই বলা সম্ভব নয়।

এলএনজি আমদানির প্রসঙ্গে মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও পাইপলাইন নির্মাণে সময় প্রয়োজন। নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। বিকল্প হিসেবে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সহায়তায় বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে গ্যাস স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বিঘ্নিত হলেও তা দ্রুত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।

সাম্প্রতিক লোডশেডিং এবং গ্যাস সংকটের কারণ হিসেবে মন্ত্রী বলেন, দুটি ভাসমান টার্মিনালের একটির বয়লার নষ্ট হওয়া এবং অন্যটিতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে এবং খুব দ্রুতই পরিস্থিতি পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শীতকালে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকলেও গরমে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এনএন/ ১৫ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language