ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি বাংলাদেশ: দীর্ঘ বিরতির পর সাদা পোশাকে লড়াই

ক্যানবেরা , ১২ আগস্ট – অপেক্ষা মাত্র কয়েক ঘণ্টার। বৃহস্পতিবার ভোরেই শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার বহু প্রতীক্ষিত টেস্ট সিরিজ। বাংলাদেশ সময় ১৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ৬টায় ডারউইনে প্যাট কামিন্সের শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন টাইগার বাহিনী। দীর্ঘ ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার এই বিশেষ ভেন্যুতে লাল বলের ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ।
অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করলে দেখা যায়, ২০০৩ সালে এই ডারউইনেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছিল বাংলাদেশের। খালেদ মাহমুদ সুজনের নেতৃত্বে সেই ম্যাচে কিংবদন্তি স্টিভ ওয়াহর দলের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছিল টাইগাররা। দুই ম্যাচের সেই সিরিজের শেষ টেস্টটি হয়েছিল কেয়ার্নসে এবং দুটিতেই ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল বাংলাদেশ দল।
এরপর গত দুই দশকে অসিদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে আরও দুটি সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। ২০০৫-২০০৬ মৌসুমে বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে হারলেও ২০১৭ সালে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছিল টাইগাররা।
দীর্ঘ ৯ বছর পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জেতার পর ভক্তদের মাঝে বড় আশা জাগলেও তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতা সমর্থকদের বেশ ভাবিয়ে তুলেছে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আনকোরা তরুণদের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হার এবং দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়া ভক্তদের আশার পালে কিছুটা জল ঢেলে দিয়েছে। এমতাবস্থায় নাজমুল হোসেন শান্তর দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অস্ট্রেলিয়ার বৈরী কন্ডিশনে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া।
ডারউইনের ড্রপ ইন পিচ নিয়ে আলোচনা চলছে তুঙ্গে। জাতীয় দলের বর্তমান ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল এবং নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন ২০০৩ সালের সেই সিরিজে নিয়মিত সদস্য হিসেবে খেলেছিলেন। তাদের মতে, ড্রপ ইন পিচ সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার পার্থ বা ব্রিসবেনের মতো খুব বেশি দ্রুতগতির বা বাউন্সি হয় না। তবে জশ হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক ও অধিনায়ক কামিন্সদের গতির ঝড় সামলানো বাংলাদেশের টপ অর্ডারের জন্য হবে এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা।
অন্যদিকে দলের সেরা গতি তারকা নাহিদ রানার অনুপস্থিতি বাংলাদেশ শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা। তবে উইকেট যদি খাঁটি ড্রপ ইন পিচ হয়, তবে গতির চেয়েও লাইন এবং লেংথ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এমন পরিস্থিতিতে তাসকিন আহমেদ এবং হাসান মাহমুদের পাশাপাশি স্পিন আক্রমণে তাইজুল ইসলাম এবং মেহেদী হাসান মিরাজ হতে পারেন বড় অস্ত্র।
মধ্যম সারিতে মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম এবং লিটন দাসের অভিজ্ঞতার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে মাঠে নামবে এই টাইগার ক্রিকেটাররা।
এখন দেখার বিষয় পাকিস্তানের বিপক্ষে পাওয়া সেই সাফল্য তারা কি অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে ধরে রাখতে পারবে কি না। ভক্তদের অপেক্ষা এখন ডারউইনের মাঠে ব্যাটে বলের রোমাঞ্চকর লড়াই দেখার জন্য।
এনএন/ ১২ আগস্ট ২০২৬









