ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির খোঁজে সিআইএ ও মোসাদের অভিযান

ওয়াশিংটন, ২ আগস্ট – মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে উচ্চ অগ্রাধিকারভিত্তিক অভিযান চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে জনসমক্ষে না আসা এবং কোনো টেলিভিশন ভাষণ না দেওয়ায় পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তার অবস্থান ও নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। গত ৮ মার্চ মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সেখানে আরও দাবি করা হয়েছে যে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাকে এই পদে বসানো হয়। তবে এই দাবির সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন আন্তর্জাতিক সমর্থন বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মোজতবা খামেনির কঠোর নিরাপত্তা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা। তিনি কোনো ধরনের ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যম যেমন মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করছেন না। পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে গত পাঁচ মাসে তার কোনো ডিজিটাল কার্যক্রমের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তিনি বর্তমানে কেবল হাতে লেখা বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং এই বার্তাগুলো ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত বাহকদের মাধ্যমে আদান প্রদান করা হয়। গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের ধারণা মোজতবা খামেনি বর্তমানে তেহরানের কোনো সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার অথবা ধর্মীয় নগরী কোমের কাছাকাছি কোনো গোপন টানেল নেটওয়ার্কে অবস্থান করছেন।
এছাড়া কথিত হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন কি না তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। নওরোজ উপলক্ষে প্রথাগত ভাষণ না দিয়ে তিনি কেবল টেলিগ্রামে একটি সংক্ষিপ্ত লিখিত বার্তা প্রকাশ করেছিলেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তবে পশ্চিমা গোয়েন্দারা ওই সাক্ষাতের সময় ও পরিস্থিতি নিয়ে এখনো সন্দিহান। এই পরিস্থিতিতে ইরানে আইআরজিসির প্রভাব ও ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এস এম/ ২ আগস্ট ২০২৬









