উত্তর আমেরিকা

ইসরায়েলকে রক্ষায় সামরিক সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন জেনারেল গ্রিনকেভিচের সতর্কতা

ওয়াশিংটন, ২ আগস্ট – ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি নেই বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন শীর্ষস্থানীয় জেনারেল। যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ বলেছেন যে ইরানের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে একই সাথে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের বাহিনী ও স্বার্থ রক্ষা করা মার্কিন বাহিনীর জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে যেতে পারে।

তার এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও অস্ত্রের মজুত নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষা করা এবং একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত রাখা এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব একসাথে পালন করার মতো পর্যাপ্ত নৌ সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে মনে করেন জেনারেল গ্রিনকেভিচ।

তিনি পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতার ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। তার মতে এ অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর আরও অন্তত একটি ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করা জরুরি।

অন্যথায় মার্কিন কমান্ডারদের সামনে কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে যে তারা নিজেদের বাহিনীকে সুরক্ষা দেবে নাকি ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। গ্রিনকেভিচ কেবল একজন সামরিক বিশ্লেষক নন বরং তিনি মার্কিন সামরিক দায়িত্ব তদারকির অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা।

তার এই বক্তব্যে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগের বিষয়টিই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারগুলো ইসরায়েলের আকাশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে। এই যুদ্ধজাহাজগুলো দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে এসএম ৩ ও এসএম ৬ ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে সেগুলো ধ্বংস করতে পারে।

তবে এই জাহাজগুলো একই সাথে প্রশান্ত মহাসাগরে চীনকে মোকাবিলায় এবং ইউরোপে ন্যাটোর মিত্রদের আশ্বস্ত করতেও প্রয়োজন হয়। পেন্টাগনের মূল্যায়ন অনুযায়ী ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২০০টির বেশি থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে যা তাদের মোট মজুতের প্রায় অর্ধেক।

এছাড়া নৌবাহিনীর জাহাজগুলো থেকেও শতাধিক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। সমস্যা কেবল মজুত কমে যাওয়া নয় বরং এসব আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পুনরায় তৈরি করতে কয়েক বছর সময় এবং বিশাল অর্থের প্রয়োজন। ফলে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চরম সংকটে পড়তে পারে বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।

এস এম/ ২ আগস্ট ২০২৬


Back to top button