চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি ৩০ হাজার মানুষ, ৪ জনের মৃত্যু ও পাহাড়ধসের তীব্র আতঙ্ক

চট্টগ্রাম, ৮ জুলাই – টানা কয়েকদিনের রেকর্ডভাঙা ভারী বর্ষণ, ভারতের পাহাড়ি ঢল এবং তীব্র জলাবদ্ধতায় বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও এর আশেপাশের উপজেলাগুলোতে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পুরো জেলায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ সম্পূর্ণ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৫৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রশাসন থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে।

বুধবার (৮ জুলাই, ২০২৬) রাতে গণমাধ্যমকে দেশের এই বন্যা ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির সর্বশেষ চিত্র নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান।

জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চট্টগ্রামের নদী ও সাগর উপকূলীয় এলাকা এবং দ্বীপ অঞ্চলের অবস্থা সবচেয়ে আশঙ্কাজনক।

এবারের দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ। সেখানে একাই প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানির নিচে বসবাস করছেন। এছাড়া বাঁশখালীতে ৬ হাজার ৫০০ জন, আনোয়ারায় ২ হাজার ২০০ জন, কর্ণফুলী ও রাঙ্গুনিয়ায় ৩০০ জন করে মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

ফটিকছড়ি উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন আংশিক ডুবে গেছে। এছাড়া হাটহাজারী, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, পটিয়া ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। এতে রবিশস্য, বীজতলা এবং শত শত একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

পাহাড়ধসের আতঙ্ক ও ৪ জনের করুণ মৃত্যু

টানা বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের পাহাড়গুলোতে মাটি নরম হয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি স্থানে ছোটখাটো পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। নতুন করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী হাজারো পরিবার তীব্র জীবনঝুঁকিতে রয়েছেন।

ত্রাণ কর্মকর্তার তথ্যমতে, এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এ পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সীতাকুণ্ড ও রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ধস বা দেয়াল ধসে একজন করে এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চব্বিশ ঘণ্টা সচল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (Control Room) চালু করেছে জেলা প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে বা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার জন্য অনবরত মাইকিং করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে খোলা ৫৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া দুর্গত মানুষদের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট, কেক, গুড় ও খাবার স্যালাইনসহ পর্যাপ্ত শুকনো খাবার বিতরণ শুরু করেছে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ।

এনএন/ ৮ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language