মধ্যপ্রাচ্য

সিরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ অনিবার্য, তুরস্ক-পাকিস্তান নিয়ে হুঁশিয়ারি ইসরায়েলি মন্ত্রীর

তেল আবিব, ১৯ জুন – ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টির শীর্ষস্থানীয় এক মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, নিকট ভবিষ্যতে সিরিয়ার সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে ইসরায়েল। চলতি সপ্তাহে দেওয়া একাধিক রেডিও সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী আমিচাই চিকলি এই মন্তব্য করেন।

তিনি দাবি করেন যে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন উগ্র সুন্নি জোট বা অশুভ অক্ষ গড়ে উঠছে যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাআ এর নেতৃত্বাধীন সরকারকে ইঙ্গিত করে চিকলি বলেন, একটি জিহাদি শাসনব্যবস্থা যারা আল-কায়েদা বা আইএসের আদর্শে বিশ্বাসী, তাদের মূল লক্ষ্য হলো জেরুজালেম দখল করা।

এমন কোনো শক্তির সাথে ইসরায়েল কখনো শান্তিতে বসবাস করতে পারবে না। ইসরায়েলের আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান যে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং কাতারকে নিয়ে গঠিত এই নতুন জোট এখন ইরানের চেয়েও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পেছনে পাকিস্তান ও তুরস্ক বড় ভূমিকা পালন করেছে উল্লেখ করে তিনি একে ইসরায়েলের স্বার্থের পরিপন্থী হিসেবে অভিহিত করেন। অন্য এক সাক্ষাৎকারে কাতারের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে লিকুদ পার্টির এই মন্ত্রী বলেন, কাতার মূলত উগ্রবাদীদের জনসংযোগ শাখা হিসেবে কাজ করছে।

তিনি আরও দাবি করেন যে পাকিস্তান ও তুরস্ক যথাক্রমে ভারতের এবং গ্রিস ও সাইপ্রাসের বৈরী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত, অথচ এই রাষ্ট্রগুলো ইসরায়েলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র। ফলে তুরস্ক, কাতার এবং পাকিস্তানের এই রাজনৈতিক উত্থানকে তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক উগ্র সুন্নি অশুভ অক্ষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে চিকলির এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। সম্প্রতি তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ান বলেছিলেন যে সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান তুরস্কের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি এবং ইসরায়েলি আগ্রাসন থামাতে বিশ্ববাসীর সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।

এর জবাবে চিকলি বলেন যে তুরস্ক মূলত সিরিয়ায় নিজেদের একটি প্রভাব বলয় বা করদ রাজ্য তৈরি করেছে যা ইরানের কার্যকলাপের চেয়েও বহুগুণ বেশি উদ্বেগজনক। উল্লেখ্য যে তুরস্ককে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে চিকলি একাই প্রথম ইসরায়েলি নেতা নন।

গত সপ্তাহে লিকুদ পার্টির আইনপ্রণেতা আরিয়েল কেলনার তুরস্ককে সরাসরি একটি শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব তোলেন। এছাড়া গত মাসে ইসরায়েলের সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রী মিকি জোহার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও তুরস্ককে নতুন ইরান বলে আখ্যা দিয়ে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন।

দীর্ঘ যুদ্ধের পর ইসরায়েল কোনো শান্তির সময় কাটাবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আমিচাই চিকলি বলেন যে তিনি অদূর ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না। গত বছরের ৭ অক্টোবরের হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি যোগ করেন যে শত্রুপক্ষ যখন কিছু বলে তখন তা গুরুত্ব সহকারে নেওয়া প্রয়োজন।

এস এম/ ১৯ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language