মেসিকে টপকে ফিফা পাওয়ার র্যাংকিংয়ের শীর্ষে ইরানি ডিফেন্ডার রামিন রেজায়িয়ান

তেহরান, ১৯ জুন – লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা আর্লিং হালান্ডের মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের পেছনে ফেলে ফিফার বিশ্বকাপ পাওয়ার র্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন ইরানের ৩৬ বছর বয়সী রাইট ব্যাক রামিন রেজায়িয়ান। সম্প্রতি প্রকাশিত পারফরম্যান্স সূচকে সবাইকে চমকে দিয়ে তালিকার প্রথম স্থানে উঠে এসেছেন তিনি।
চলতি আসরে নিজের অসাধারণ নৈপুণ্যের মাধ্যমে রেজায়িয়ান অর্জন করেছেন ১৯.৯৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির অর্জিত পয়েন্ট ১৯.৮৬। ফিফার এই মূল্যায়ন মূলত খেলোয়াড়দের আক্রমণ, সৃজনশীলতা এবং রক্ষণভাগ এই তিনটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে করা হয়।
যেখানে শূন্য থেকে দশ স্কেলের রেটিং অনুযায়ী খেলোয়াড়দের দক্ষতা বিচার করা হয়। রেজায়িয়ানের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচটি। সেই ম্যাচে একজন ডিফেন্ডার হয়েও তিনি আক্রমণভাগে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন।
একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থকে দিয়ে অন্য গোলটি করান তিনি। সেই ম্যাচে আক্রমণের জন্য ৬.৭৬, সৃজনশীলতায় ৮.২৩ এবং রক্ষণভাগে ৪.৯৪ রেটিং পান এই ফুটবলার। এতেই মেসির চেয়ে শূন্য দশমিক শূন্য সাত পয়েন্টে এগিয়ে যান তিনি।
উত্তর ইরানের মাজান্দারান অঞ্চলে জন্ম নেওয়া রেজায়িয়ান বর্তমানে এস্তেগলাল ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকলেও ধারে খেলছেন ফুলাদে। এর আগে তিনি ইরানের জনপ্রিয় ক্লাব পার্সিপোলিস এবং সেপাহানের হয়ে খেলেছেন। আন্তর্জাতিক ক্লাব ক্যারিয়ারে তিনি বেলজিয়ামের কেভি ওস্টেন্দে এবং কাতারের বেশ কিছু ক্লাবে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।
রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হলেও রেজায়িয়ান মূলত আক্রমণাত্মক ফুটবলার হিসেবে পরিচিত। ২০১৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর এটি তার তৃতীয় বিশ্বকাপ। এর আগে ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও তিনি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছিলেন।
মাঠের নান্দনিক ফুটবল ও আত্মবিশ্বাসী আচরণের জন্য ইরানি ফুটবলে তাকে শোম্যান হিসেবে ডাকা হয়। ৩৬ বছর বয়সে ইউরোপের কোনো বড় ক্লাবে না খেলেও বিশ্বমঞ্চে এমন দাপট দেখিয়ে তিনি বিশ্ব ফুটবলকে আবারও অবাক করে দিয়েছেন।
এস এম/ ১৯ জুন ২০২৬









