কোরবানির একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয়: বাণিজ্যমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি, সংরক্ষণে বরাদ্দ ১৭ কোটি টাকা!

ঢাকা, ১৪ মে – আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনা নিয়ে নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, একটি চামড়াও যাতে নষ্ট না হয়—সেটিকে ‘জাতীয় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এবার মাঠ পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর তদারকি ও বিশাল আর্থিক বরাদ্দের পরিকল্পনা।
কাঁচা চামড়ার গুণগত মান ঠিক রাখতে এবং এতিমখানা-মাদ্রাসার আর্থিক ক্ষতি ঠেকাতে সরকার এবার অঢেল অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে:
- বিনামূল্যে লবণ: সারাদেশে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের জন্য ১৭ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
- প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা: মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে আরও ২ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
- বিশাল প্রচার: সচেতনতা বাড়াতে বিতরণ করা হবে ৩ লাখ পোস্টার ও ৮ লাখ লিফলেট।
সচিবালয়ে মন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সাথে এক ভার্চুয়াল সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রদান করেন:
১. মসজিদে খুতবা: ঈদের আগের দুই জুমায় দেশের সব মসজিদে খতিব ও ইমামগণ যেন চামড়া ছাড়ানোর সঠিক পদ্ধতি ও সংরক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে খুতবা প্রদান করেন।
২. লবণের সঠিক ব্যবহার: কোরবানির ২ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে লবণ প্রয়োগ বাধ্যতামূলক। বড় গরুর জন্য ৮-১০ কেজি এবং ছাগলের জন্য ৩-৪ কেজি লবণ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৩. তদারকি টিম: বিভাগীয় কমিশনারদের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ মনিটরিং টিম জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করবে।
মন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, পশুর হাটগুলোতে যাতে পর্যাপ্ত লবণের সরবরাহ থাকে এবং চামড়া বিনষ্টকারী কোনো চক্র যাতে অপপ্রচার চালাতে না পারে, সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রাখতে হবে। এছাড়া কোরবানির বর্জ্য অপসারণ ও চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য সিটি কর্পোরেশনগুলোকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “সামান্য অসচেতনতার কারণে প্রতিবছর আমাদের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। চামড়া সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা গেলে কেবল দেশের শিল্পই নয়, উপকৃত হবে এতিমখানা ও মাদ্রাসাগুলোও।”
এনএন/ ১৪ মে ২০২৬









