ইউরোপ

ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে বলে ইঙ্গিত দিলেন ভ্লাদিমির পুতিন

মস্কো, ১০ মে – ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধাবস্থা শেষের দিকে যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হলে তৃতীয় কোনো নিরপেক্ষ দেশে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে তিনি নিজের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংঘাত নিরসনে একই ধরনের ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন এসব মন্তব্য করেন। মস্কোর রেড স্কয়ারে আয়োজিত বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি এই নমনীয় মনোভাব প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেন তিন দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই সমঝোতার আওতায় উভয় দেশ এক হাজার করে বন্দি বিনিময়ের বিষয়েও একমত হয়েছে বলে জানা গেছে। এটি কূটনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে নতুন এক আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে পুতিন ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ সেনাদের প্রশংসা করে বলেন যে তারা এক ন্যায়সংগত লড়াইয়ে লিপ্ত। তার দাবি, রুশ বাহিনী পুরো ন্যাটো জোটের সমর্থনপুষ্ট একটি আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

এবারের প্যারেডে প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ার সেনারাও অংশ নিয়েছে। রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পিয়ংইয়ংয়ের সেনারা সরাসরি সহায়তা করায় তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এর আগে গত শুক্রবার ও শনিবারের জন্য রাশিয়া একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও জেলেনস্কি ৬ মে থেকে তা কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগে সেই যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি সফল হয়নি। ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট অনুযায়ী, নতুন করে হওয়া এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সব ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড স্থগিত থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এটি একটি দীর্ঘ এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সমাপ্তির সূচনা হতে পারে।

বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। গত সপ্তাহে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্তোনি কস্তাও ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।

এনএন/ ১০ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language