জাতীয়

ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে পুনর্গঠন করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ: মির্জা ফখরুল

ঢাকা, ১০ মে – দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর এখন দেশ পুনর্গঠনকেই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিগত শাসনের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে রাষ্ট্রকে টেনে তোলাই হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ।

শনিবার (৯ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের জেলা নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল তাঁর বক্তব্যের শুরুতে তৃণমূল নেতাদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, “আপনারা একটি বড় রকমের যুদ্ধ শেষ করে এসেছেন। সেই যুদ্ধ ছিল দেশকে রক্ষা করার এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের। সেই যুদ্ধে আপনারা জয়ী হয়েছেন। আপনাদের সাহসিকতায় আজ আমরা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছি এবং আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছি।”

সরকারের বর্তমান দায়িত্বকে একটি কণ্টকাকীর্ণ পথ হিসেবে বর্ণনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আজকে আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক বড়। আমরা একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি। যেদিকে তাকাবেন, সেদিকেই শুনবেন কেবল ‘নেই আর নেই’। এই হাহাকার ও অভাবের মধ্য থেকে রাষ্ট্রকে পুনরায় জাগিয়ে তোলা এবং টেনে তোলাই আমাদের নতুন সংগ্রাম।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, দল, সরকার এবং রাষ্ট্র—এই তিনটিকে একই সঙ্গে পুনর্গঠন করা বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। এই কঠিন পথ পাড়ি দিতে তিনি দলের নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আহ্বান জানান।

নির্বাসিত অবস্থা থেকে দলের হাল ধরে সফল অভ্যুত্থান এবং নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করার জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আমাদের নেতার ত্যাগ এবং নেতাকর্মীদের আত্মদানকে সম্মান জানিয়ে দলকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলো পৌঁছে দিতে হবে এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগসূত্র রক্ষা করতে হবে।”

দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এলেও বর্তমান পরিস্থিতিকে তারা কেবল উৎসবের সময় হিসেবে দেখছেন না; বরং রাষ্ট্রযন্ত্রের সংস্কার ও জনদুর্ভোগ লাঘবকেই তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। বিশেষ করে তৃণমূলের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করতে চায় দলটি।

এনএন/ ১০ মে ২০২৬


Back to top button