ইউরোপ

আটলান্টিকে প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের হানা: ৩ মৃত্যু ও নতুন মহামারির শঙ্কা নাকচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

জেনেভা, ৯ মে – কোভিড-১৯ মহামারির রেশ কাটতে না কাটতেই আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান একটি প্রমোদতরীতে ‘হান্টাভাইরাস’ (Hantavirus) সংক্রমণের খবর বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের নিয়ে ভ্রমণে বের হওয়া এমভি হন্ডিয়াস জাহাজে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, কারণ এই ভাইরাসের ছড়ানোর ধরন কোভিডের মতো নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রমোদতরীটিতে এখন পর্যন্ত আটজন সন্দেহভাজন রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ছয়জনের দেহে ভাইরাসটি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

শনাক্ত হওয়া ভাইরাসের ধরনটি মূলত ‘অ্যান্ডিস ভাইরাস’ (Andes virus) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা হান্টাভাইরাসের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রজাতি।

ডব্লিউএইচও-র মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস জানিয়েছেন, প্রাদুর্ভাবের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আক্রান্ত প্রথম দম্পতি আর্জেন্টিনা, চিলি ও উরুগুয়েতে পাখি পর্যবেক্ষণের জন্য ভ্রমণে গিয়েছিলেন। ভ্রমণকালে তারা এমন কিছু দুর্গম এলাকায় গিয়েছিলেন যেখানে হান্টাভাইরাস বহনকারী নির্দিষ্ট প্রজাতির ইঁদুরের উপস্থিতি ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ইঁদুরের মলমূত্র বা লালা থেকে তারা প্রথম সংক্রমিত হন এবং পরে জাহাজে ওঠার পর এটি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যন ক্যারকোহভ এই প্রাদুর্ভাবকে কোভিডের সাথে তুলনা করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি নতুন কোনো মহামারির শুরু নয়।”

কেন এটি কোভিডের মতো বিপজ্জনক নয়?

১. সীমিত বিস্তার: এটি বর্তমানে কেবল একটি নির্দিষ্ট জাহাজের (এমভি হন্ডিয়াস) মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

২. ছড়ানোর ধরন: হান্টাভাইরাস কোভিডের মতো বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায় না। এটি সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির অত্যন্ত কাছাকাছি সংস্পর্শে এলে সংক্রমিত হওয়ার সুযোগ থাকে।

৩. পূর্ব অভিজ্ঞতা: আজ থেকে ৬ বছর আগে (২০২০ সালে) বিশ্ব যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল, বর্তমান ব্যবস্থাপনা তার চেয়ে অনেক উন্নত।

সংক্রমণ রোধে জাহাজের সকল যাত্রী ও ক্রুদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যারা সরাসরি আক্রান্তদের সেবা দিচ্ছেন, তাদের পিপিই-সহ উন্নত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

আটলান্টিকের বুকে এক নিঃসঙ্গ জাহাজে এই ভাইরাস আটকে থাকলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে আক্রান্তদের যাতায়াতের রুট আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সঠিক কোয়ারেন্টাইন এবং সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা বজায় রাখলে এই প্রাদুর্ভাব জাহাজেই নির্মূল করা সম্ভব।

এনএন/ ৯ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language