জাতীয়

শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে স্বৈরাচার: তারেক রহমান

ঢাকা, ১ মে – স্বৈরাচারী শাসকরা এ দেশের মেহনতি শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টনে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন যে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় ইতিমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ কার্ড চালুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে এবং কৃষি কাজের জন্য সময়মতো পানি পায় না। এই সমস্যা সমাধানে খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তারেক রহমান দৃঢ়ভাবে বলেন যে কৃষক ও শ্রমিকের ভাগ্য পরিবর্তন হলে তবেই বাংলাদেশের ভাগ্যের প্রকৃত পরিবর্তন ঘটবে।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন যে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক জুলাই আগস্টের ছাত্র জনতার বিপ্লবে শ্রমিকদের ভূমিকা অপরিসীম। বিশেষ করে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিক দলের যে ৭২ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তিনি।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন যে অতীতে বিএনপির যেকোনো কর্মসূচিতে স্বৈরাচারের বাহিনী ও দলীয় ক্যাডাররা নারকীয় হামলা চালাত। নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকা এক সময় আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ সেই স্বৈরশাসনকে চিরতরে বিদায় দিয়েছে।

তারেক রহমান আরও যোগ করেন যে বিগত এক দশকে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছিল। শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কারণেই আজ দেশ নতুন করে স্বাধীনতার স্বাদ পাচ্ছে।

শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এনএন/ ১ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language