হামলায় গুরুতর আহত ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল বিকৃত!

তেহরান, ১১ এপ্রিল – যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোজতবা খামেনি। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিমান হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছেন। তার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে এবং পায়ে বড় ধরনের আঘাত পেয়েছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে।
যুদ্ধের শুরুতে ইরানের রাজধানী তেহরানে সর্বোচ্চ নেতার বাসভবনে চালানো ওই হামলায় তার বাবা নিহত হন। সূত্রমতে, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি বর্তমানে আঘাত থেকে সেরে উঠছেন। শারীরিক জখম থাকলেও তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সজাগ রয়েছেন। অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে ইরান কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি অবস্থান করছে।
একই সঙ্গে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। গত ৮ মার্চ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণার পর থেকে তার কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই আহত হন মোজতবা খামেনি। ওই হামলায় তার পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হন।
ইরানের পক্ষ থেকে তার আঘাতের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাকে গুরুতর আহত ব্যক্তি হিসেবে একবার উল্লেখ করা হয়েছিল। এছাড়া গত ১৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেন, মোজতবা খামেনির চেহারা সম্ভবত বিকৃত হয়ে গেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স আরও জানিয়েছে, তিনি একটি পা হারিয়ে থাকতে পারেন। তবে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী এক বা দুই মাসের মধ্যে তার ছবি প্রকাশ করা হতে পারে এবং তিনি জনসমক্ষে আসতে পারেন।
এস এম/ ১১ এপ্রিল ২০২৬









