অতীতের মিথ্যা তথ্যের কারণে জ্বালানি নিয়ে সরকারের কথায় মানুষের আস্থা নেই: ড. তামিম

ঢাকা, ৪ এপ্রিল – অতীতে জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারণে বর্তমানে সরকারের দেওয়া তথ্যে জনগণ আস্থা রাখতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম। শনিবার রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় করণীয় শীর্ষক এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ড. তামিম বলেন, বিগত সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন প্রতি বছর তিন হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছে।
গত দশ বছরে তাদের অর্জিত মুনাফার পরিমাণ প্রায় ত্রিশ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিপিসির এই অর্থ আপৎকালীন মজুত হিসেবে না রেখে সরকার অন্য খাতে ব্যবহার করেছে। অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব না দিয়ে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এই বিশেষজ্ঞ আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরুর আগে দেশে মাত্র দুই দিনের জ্বালানি মজুত ছিল। বর্তমানে সাত থেকে পনেরো দিনের মজুত থাকার পরও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং তারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পেট্রোল ও অকটেন কিনছেন।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং সরকার জ্বালানির দাম বাড়ালে দেশে ব্যাপক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা রয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, বিগত সময়ের ভুল নীতির কারণে বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারও এ খাতের সক্ষমতা ধরে রাখতে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।
কুইক রেন্টালের ক্যাপাসিটি চার্জ এবং আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তির সমালোচনা করে তিনি বিগত সরকারের আমলের সব বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান। ছায়া সংসদে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিকে পরাজিত করে বিজয়ী হয় স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক রিজভী নেওয়াজ, রিশান নসরুল্লাহ, আতিকুর রহমান ও জাফর ইকবাল। শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।
এস এম/ ৪ এপ্রিল ২০২৬









