ইরানে সংঘাতের এক মাস: ধ্বংসস্তূপের মাঝেও স্বাভাবিক জীবনের খোঁজ

তেহরান, ৩১ মার্চ – ইরানে চলমান সংঘাতের এক মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর সাধারণ নাগরিকরা ধীরে ধীরে এই যুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে শুরু করেছেন। সংঘাত ও উদ্বেগের মধ্যেও অনেকে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
মঙ্গলবার বিবিসির পার্সিয়ান সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ঘোঞ্চেহ হাবিবিআজাদ তার এক প্রতিবেদনে ইরানিদের যুদ্ধকালীন এই পরিবর্তিত জীবনযাত্রার চিত্র তুলে ধরেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানজুড়ে ব্যাপক ইন্টারনেট বিভ্রাটের কারণে দেশটির অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তা সত্ত্বেও অনেকে উচ্চমূল্যে বিকল্প ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেহরানের এক তরুণী তার অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে বলেন যে তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত এবং ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন। তার মতে, তেহরানে গত কয়েক দিন অত্যন্ত ভয়াবহভাবে কেটেছে এবং শুধু হামলার সংখ্যাই নয়, বরং এর শব্দও আগের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ংকর মনে হচ্ছে। দেশের অবকাঠামোগুলোতে হামলার আশঙ্কায় তিনি সবসময় আতঙ্কিত থাকেন এবং সম্ভাব্য বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কথা মাথায় রেখে সবসময় ফোন চার্জ করে রাখার চেষ্টা করেন।
বিমান হামলায় কর্মস্থল হারানো পশ্চিম তেহরানের এক বিউটি পারলার কর্মী মিনা জানান, যুদ্ধবিমানের বিকট শব্দের কারণে তিনি ঘুমাতে পারতেন না। তার মনে হতো যেন কানের পাশেই জেট বিমানগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে। অন্যদিকে তেহরানের পার্শ্ববর্তী শহর কারাজে বসবাসকারী আরেক তরুণ জানান, তিনি পরিস্থিতির কারণে ধীরে ধীরে আশা হারিয়ে ফেলছেন। তবে তিনি মনে করেন এই যুদ্ধ পরিস্থিতি একসময় অনিবার্য ছিল।
তিনি আরো জানান যে অনেক বছর আগেই তার ইরান ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু তিনি দেশেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যুদ্ধের কারণে অনেকে তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় ও ব্যবসা হারিয়েছেন। তেহরানের কেন্দ্রস্থলে চশমার দোকান চালানো ৪০ বছর বয়সী আহমদ রেজা জানান, এক বিমান হামলায় তার দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
গুদামে থাকা সব চশমা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং এখন তার কাছে পরিশোধ করার মতো শুধু একগাদা চেক অবশিষ্ট আছে। এত সব ধ্বংস ও হতাশার মধ্যেও কিছু মানুষ এখনো ইতিবাচক দিক খুঁজছেন।
আরেক তরুণী বিবিসিকে জানান, দিনের বেলায় তিনি মাঝে মাঝে বাইরে বের হন এবং বসন্তের এই সময়ে তেহরানকে তার কাছে এখনো আগের মতোই সুন্দর মনে হয়। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়লেও তারা ধীরে ধীরে এই পরিস্থিতিকে নতুন স্বাভাবিক জীবন হিসেবে মেনে নিতে শুরু করেছেন।
এ এম/ ৩১ মার্চ ২০২৬









