এশিয়া

যুদ্ধের প্রভাবে সার রপ্তানি কমাচ্ছে চীন, বাড়ছে বৈশ্বিক চাপ

বেইজিং, ২০ মার্চ – ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে সারের সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজার রক্ষার জন্য চীন সার রপ্তানি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারে আরও চাপ তৈরি করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট শিল্প সূত্রগুলো।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি সময়ে বেইজিং নাইট্রোজেন-পটাশিয়াম মিশ্র সার এবং কিছু ফসফেটজাত সার রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে।

সংস্থাটির তথ্য বলছে, ইউরিয়ার ওপর আগের নিষেধাজ্ঞা ও রপ্তানি কোটার পাশাপাশি এখন চীন থেকে খুব সীমিত কয়েক ধরনের সার—বিশেষ করে অ্যামোনিয়াম সালফেট—রপ্তানি করা যাচ্ছে। এর ফলে গত বছর যত সার রপ্তানি হয়েছিল, এখন তা অর্ধেক থেকে তিন-চতুর্থাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। রয়টার্সের এক হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ প্রায় ৪০ মিলিয়ন বা ৪ কোটি মেট্রিক টন পর্যন্ত হতে পারে।

বিশ্বের বড় সার রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি হলো চীন। গত বছর দেশটি ১৩ বিলিয়ন বা ১৩০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সার রপ্তানি করেছে।

এই নিষেধাজ্ঞার খবর এমন সময়ে এলো, যখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে সার পরিবহন কার্যত স্থবির হয়ে গেছে। সমুদ্রপথে বিশ্বে যে পরিমাণ সার সরবরাহ হয়, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান বিএমআইয়ের জ্যেষ্ঠ পণ্য বিশ্লেষক ম্যাথিউ বিগিন রয়টার্সকে বলেন, এটি নতুন কিছু নয়, বরং একটি ধারাবাহিক প্রবণতা। বৈশ্বিক সংকটের সময় চীন সরবরাহ বাড়িয়ে সহায়তা করার বদলে বরং তা সীমিত করে। তারা খাদ্য নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেয় এবং দামের চাপ থেকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজারকে রক্ষা করতে চায়।

এনএন/ ২০ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language