মার্কিন সাবমেরিন হামলায় ইরানি জাহাজ ডুবি: নাবিকদের ফেরত না দিতে শ্রীলঙ্কাকে চাপ ওয়াশিংটনের

নয়া দিল্লি, ৭ মার্চ – ভারত মহাসাগরে মার্কিন সাবমেরিন হামলায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কলম্বো উদ্ধার হওয়া ইরানি নাবিকদের যেন তেহরানের কাছে হস্তান্তর না করে সেজন্য শ্রীলঙ্কা সরকারকে সরাসরি চাপ দিচ্ছে ওয়াশিংটন।
বুধবার শ্রীলঙ্কার গ্যাল বন্দর থেকে ১৯ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো ছুড়ে ইরানি যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনাকে ডুবিয়ে দেয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব এই আক্রমণকে নীরব মৃত্যু হিসেবে অভিহিত করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই আমেরিকার প্রথম কোনো সাবমেরিন হামলা যা দক্ষিণ এশিয়ায় ইরান ও মার্কিন সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
ডুবে যাওয়া জাহাজটি থেকে ৩২ জন এবং পার্শ্ববর্তী অপর একটি ইরানি জাহাজ আইআরআইএস বুশেহর থেকে ২০৮ জন নাবিককে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দিশানায়েকে জানিয়েছেন যে মানবিক কারণে এই নাবিকদের গ্রহণ করা তাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং বর্তমানে উদ্ধারকৃতদের কলম্বোর কাছে একটি সুরক্ষিত নৌ ঘাঁটিতে রাখা হয়েছে। কলম্বোয় নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেইন হাওয়েল শ্রীলঙ্কা সরকারকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে এই নাবিকদের যেন কোনোভাবেই ইরানে ফেরত পাঠানো না হয়।
আমেরিকার দাবি ইরান সরকার উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ব্যবহার করে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে এবং এই নাবিকদের মধ্যে কেউ দলত্যাগ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে চায় কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইরান সরকার নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে শ্রীলঙ্কার সাহায্য চাইলেও আমেরিকা তাতে আপত্তি জানিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় জাহাজ বুশেহর শ্রীলঙ্কার হেফাজতেই থাকবে যা দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কাকে একদিকে মানবিক দায়িত্ব এবং অন্যদিকে প্রবল মার্কিন চাপের মুখে চরম বিপাকে ফেলেছে।
এম ম/ ৭ মার্চ ২০২৬









