ইরানে হামলা ও বেসামরিক সুরক্ষা নিয়ে জাতিসংঘের জরুরি বৈঠকে চীনের কঠোর বার্তা

তেহরান, ১ মার্চ – ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে চীন অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু কং সতর্ক করে বলেছেন যে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার আন্তর্জাতিক সীমা বা রেড লাইন কোনোভাবেই লঙ্ঘন করা যাবে না। জরুরি বৈঠকে ফু কং উল্লেখ করেন, যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতের ক্ষেত্রে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক এবং এই আন্তর্জাতিক নীতি সব পক্ষকেই মেনে চলতে হবে।
ইরানে সাম্প্রতিক হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, ইরানজুড়ে চালানো অভিযানে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক নাগরিক হতাহত হওয়ার খবরে বেইজিং শঙ্কিত। ফু কং এই হামলাকে নির্বিচার বলপ্রয়োগ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সব পক্ষকে তাদের মানবিক দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং নির্বিচারে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
চীন এই অঞ্চলে সংঘাতের বিস্তার রোধে অবিলম্বে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। চীনা প্রতিনিধি সতর্ক করেন যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে এবং এখনই উত্তেজনা প্রশমন না করা হলে এর ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধি আরও উল্লেখ করেন যে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চীন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত। বেইজিং মনে করে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমেই যেকোনো সংকটের সমাধান হওয়া উচিত।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় ইরানের ওপর শুরু হওয়া এই হামলা নিয়ে বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও চীন সতর্ক করছে যে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি চিরতরে বিঘ্নিত করতে পারে। এর মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নিয়ে বিভিন্ন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এস এম/ ১ মার্চ ২০২৬









