জাতীয়

ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি থাকলেও ৬৫ প্রকল্পে খরচ বাড়ল প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা

ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি – উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় কমানো এবং অপচয় রোধের অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় আসা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বা একনেকের কার্যবিবরণী বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে সরকারের দেড় বছরের মেয়াদে অন্তত ৬৫টি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৭৯ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা ছিল বারবার প্রকল্প সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বাড়ানোর সংস্কৃতি বন্ধ হবে। বিশেষ করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলো কঠোরভাবে যাচাই করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও একনেকের বৈঠকের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাস্তবে এর উল্টোটি ঘটেছে।

একনেকের ১৯টি বৈঠকে মোট ৮৭টি চলমান প্রকল্প সংশোধন করা হয়েছে এবং প্রতি বৈঠকে গড়ে পাঁচটি প্রকল্পে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র সাতটি প্রকল্পের ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে, যার পরিমাণ ৯৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে ৬৫টি প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া ১৫টি প্রকল্পের ব্যয় অপরিবর্তিত রেখে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এসব প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় দুই লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা ধরা হলেও সংশোধনের পর তা বেড়ে তিন লাখ চার হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

অর্থাৎ গড়ে ব্যয় বেড়েছে ৩৫ শতাংশেরও বেশি। অর্থনীতিবিদরা মনে করেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকার অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাবে, কিন্তু বারবার সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বৃদ্ধি সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। উদাহরণস্বরূপ, গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় এক হাজার ৩০৫ কোটি থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৫৭১ কোটি টাকা করা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় সংশোধন করে এক লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মূল অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। একইভাবে ঢাকার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপের ব্যয় চার হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৬ হাজার ১৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এলেঙ্গা ও হাটিকুমরুল হয়ে রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প এবং মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। উপজেলা পর্যায়ে স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৪৮ শতাংশ।

তবে ব্যতিক্রম হিসেবে ঢাকার মেট্রো রেল প্রকল্পে ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৩২ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা স্টেশন এলাকার উন্নয়ন ও জমি অধিগ্রহণ কমিয়ে সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। এদিকে সরকার দেড় বছরে ১৩৫টি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যেখানে চট্টগ্রাম জেলার প্রকল্পে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও প্রকল্প সংশোধনের পুরনো সংস্কৃতি থেকে বের হতে পারেনি বর্তমান প্রশাসন।

এসএএস/ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language