বোরো মৌসুমে সারের দামে অরাজকতা, সিন্ডিকেটের কারসাজিতে দিশাহারা কৃষক

খুলনা, ২৫ ফেব্রুয়ারি – খুলনার কয়রার গাতিঘেরি গ্রামের কৃষক দেবাশীষ মণ্ডল এবার আট বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। মৌসুমের শুরুতে সরকার নির্ধারিত দামে সার পেলেও এখন তাকে ইউরিয়া কিনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৬ টাকা বেশি দরে। টিএসপি ও ডিএপি সারের ক্ষেত্রেও তাকে কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা বাড়তি গুনতে হচ্ছে। শুধু দেবাশীষ নন বোরো মৌসুমের এই ভরা সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকরা সারের বাড়তি দাম নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
সরকারি হিসাবে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও মাঠ পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নিচ্ছে একটি অসাধু চক্র। দেশের প্রায় ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয় যা থেকে আসে সারা বছরের চালের বড় অংশের জোগান। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন এই সময়ে সারের বাজারে অস্থিরতা চললে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত খাদ্য নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হবে। সরেজমিনে ১১টি জেলায় অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে সর্বত্রই কমবেশি একই চিত্র। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের সিন্ডিকেট সরকারি দরের তোয়াক্কা না করে কৃষকদের জিম্মি করে ফেলেছে।
গাইবান্ধা ও দিনাজপুরে রসিদ ছাড়া বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। চুয়াডাঙ্গা ও রাজশাহীতে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সার কুক্ষিগত করার অভিযোগও রয়েছে। সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ২৫০ টাকা হলেও কৃষকদের ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ডিএপি ও টিএসপির ক্ষেত্রেও বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম সতর্ক করে বলেছেন উপকরণের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারাবেন। এদিকে কৃষি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন সারের দামে কারসাজি করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।
এস এম/ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬





