বগুড়া

পুরোনো আলুর চাপে নতুন আলুর দামে ধস, হতাশায় বগুড়ার কৃষকরা

বগুড়া, ২৩ ফেব্রুয়ারি – নতুন মৌসুম শুরু হলেও আলুর বাজারে স্বস্তির পরিবর্তে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। সাধারণত বছরের এই সময়ে নতুন আলুর আগমনে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা থাকে কৃষকদের, কিন্তু চলতি মৌসুমে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাজারে এখনো বিপুল পরিমাণ পুরোনো আলুর মজুদ থাকায় নতুন আলুর দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষকদের ওপর। কৃষকরা জানিয়েছেন, বাজারে আলুর দামে রীতিমতো ধস নেমেছে এবং নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি মাত্র ৮ থেকে ৯ টাকায়, যা উৎপাদন খরচের চেয়েও অনেক কম।

বগুড়ায় চলতি মৌসুমে লাভের আশায় আলু চাষ করে চরম লোকসানে পড়েছেন চাষিরা। গত মৌসুমের বিপুল পরিমাণ আলু এখনো হিমাগারে রয়ে গেছে, যা সাধারণত এই সময়ের মধ্যে খালি হয়ে যাওয়ার কথা। পুরোনো আলুর এই অতিরিক্ত মজুদের কারণেই নতুন আলু বাজারে এলেও কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। জানা গেছে, অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আগাম জাতের আলু চাষ শুরু হয় এবং ৬৫ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যেই তা বাজারজাত করা হয়।

চলতি মৌসুমে আগাম জাতের আলু উৎপাদনে কেজিপ্রতি খরচ পড়ছে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ টাকা, অথচ বাজারে তা বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ৯ টাকায়। এতে মূলধন ফেরত পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চাঁদবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম জানান, তিনি এবার ৩ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন, যার অর্ধেকই আগাম জাতের। এক বিঘা জমিতে চাষ করতে খরচ হয় অন্তত ৩৫ হাজার টাকা এবং ফলন হয় ৬০ থেকে ৬৫ মণ। কিন্তু বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে এই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা মণ দরে, ফলে উৎপাদন খরচই উঠছে না। পাইকারী ব্যবসায়ী সুলতান আহমদ জানান, বাজারে চাহিদা কম থাকায় আলু বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় চলতি মৌসুমে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে এবং ফলন লক্ষ্যমাত্রা ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৭০ মেট্রিক টন। শাজাহানপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনা খাতুন জানান, কৃষি বিভাগ উৎপাদন ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, তবে বাজারদর নির্ধারণ কৃষি বিপণন বিভাগের বিষয়। এমতাবস্থায় আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও বাজার স্থিতিশীল করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

এস এম/ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language