এলডিসি উত্তরণ ৩ বছর পেছানোর প্রস্তাব জাতিসংঘের কাছে

ঢাকা, ২০ ফেব্রুয়ারি – স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ বা গ্রাজুয়েশন তিন বছরের জন্য স্থগিত করার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে এই সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সিডিপির কাছে পাঠানো হয়েছে।
আগামী ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি সিডিপির বৈঠকে বাংলাদেশের এই অনুরোধ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এলডিসি গ্রাজুয়েশনের জন্য সরকার যে প্রস্তুতিমূলক সময় পেয়েছিল, তা মূলত কোভিড মহামারি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যয় করতে হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক কঠোর মুদ্রানীতি এবং অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। পাশাপাশি শিপিং খাতে সরবরাহ বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ হ্রাস, রাজস্ব আয়ে ধীরগতি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি। ফলে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ও নীতিগত সমন্বয় পুরোপুরি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। চিঠিতে বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্যে উচ্চমাত্রার অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে ইউরোপীয় বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা প্রাপ্তি এবং প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের নীতিগত পরিবর্তনের ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তিন বছরের জন্য একটি ‘ক্রাইসিস অ্যাসেসমেন্ট’ পরিচালনা এবং সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহের বৈঠকের পর সিডিপি তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ প্রদান করবে এবং আগামী সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে এলডিসি তালিকাভুক্ত হয় এবং ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে।
এসএএস/ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









