আইন-আদালত

এক হাতে ফুল, অন্য হাতে ছেঁড়া স্যান্ডেল: ট্রাইব্যুনালে মেয়ের হত্যার বর্ণনায় বাবার কান্না

ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি – আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই ও আগস্টের গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ মেহরুন নেছা তানহার বাবা মোশারফ হোসেন।

বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল ২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে তিনি এই জবানবন্দি দেন। এদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

জবানবন্দিতে সন্তান হারানোর মর্মান্তিক বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মোশারফ হোসেন। তিনি জানান ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বিজয় মিছিল শেষে ফিরছিলেন তানহা। ভিডিও কলে বাবার সঙ্গে কথা বলার সময় তার এক হাতে ছিল একগুচ্ছ ফুল এবং অন্য হাতে ছেঁড়া স্যান্ডেল। কিন্তু বাসায় ফেরার আগেই সব শেষ হয়ে যায়।

তানহা রাজধানীর মিরপুর শাহ আলী কলেজে অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে মিরপুর ১৩ নম্বরে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। মোশারফ হোসেন জানান কোটা সংস্কার আন্দোলনে তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে সক্রিয় ছিলেন। ১৯ জুলাই তাদের মামাতো ভাই আকরাম খান রাব্বী মিরপুর ১০ নম্বরে শহীদ হন। এরপর ৫ আগস্ট তানহা ভাইদের সঙ্গে গণভবনে যান। ফেরার পথে সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়। বাবাকে আশ্বস্ত করে তিনি ভাইকে নিয়ে দ্রুত বাসায় ফিরছেন বলে জানান। ঠিক এক মিনিট পরেই তার মায়ের ফোনে তানহার গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর আসে। খবর পেয়ে বাবা দৌড়ে বাসায় গিয়ে দেখেন তানহা বুকের বাঁ পাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে আছেন। রক্তে মেঝে ভেসে যাচ্ছে। তাকে কোলে তুলে নিচে নামান বাবা আর তখন তার শরীর মেয়ের রক্তে ভিজে যায়। দ্রুত মিরপুর আলোক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ গুমের ভয়ে তড়িঘড়ি করে বাসায় এনে রাতেই পূর্ব বাইশটেকি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় মোশারফ হোসেন বলেন আমার মেয়ে যখন গুলিবিদ্ধ হয় তখন বাসায় সাবলেট থাকা আরেক নারীও গুলিবিদ্ধ হন। তিনি মেয়ে ও ভাগ্নে হত্যার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় এমপি মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম ও ইনানসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এনএন/ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language