ফেনীতে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, নির্বাচন ঘিরে জনমনে বাড়ছে শঙ্কা

ফেনী, ১১ ফেব্রুয়ারি – ফেনীতে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থানা থেকে লুট হওয়া একাধিক প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। একইসাথে গণঅভ্যুত্থানের সময় ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্রের বড় একটি অংশও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বিপজ্জনক এসব অস্ত্র এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। জানা গেছে, ফেনীতে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে নির্বিচার গুলি চালিয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সেই সহিংসতায় জেলায় অন্তত আট জন প্রাণ হারান। ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন থানা থেকে মোট ৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এর মধ্যে ৫টি পিস্তল ও ২টি শটগানসহ মোট ৭টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। এছাড়া গত ১৭ মাসেও হদিস মেলেনি অভ্যুত্থানের সময় ব্যবহৃত অধিকাংশ অবৈধ অস্ত্রের। রাজনৈতিক দলগুলোর মতে, জাতীয় নির্বাচনে এসব অস্ত্র বড় ধরণের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। ফেনী-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জয়নাল আবেদীন অভিযোগ করে বলেন, এসব অস্ত্র দিয়ে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং সেগুলো এখনো উদ্ধার করা হয়নি। তিনি অতিসত্বর এসব অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। অন্যদিকে ফেনী-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ফখরুদ্দিন মানিক জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী হলেও শঙ্কা পুরোপুরি কাটছে না। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে এজাহারভুক্ত ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরাও। পুলিশের তথ্যমতে, লাইসেন্স করা মাত্র ৯৫টি অস্ত্র জমা পড়েছে। ফেনী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, খোয়া যাওয়া ৩৩টি অস্ত্রের মধ্যে ২৬টি উদ্ধার হয়েছে এবং বাকি সাতটি উদ্ধারে গোয়েন্দা কার্যক্রমসহ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ৪ আগস্টের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যবহৃত অস্ত্রের একটি উদ্ধার করা হয়েছে। নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক জানান, জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং র্যাব নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে অভিযান আরও সফল হবে।
এ এম/ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









