চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘটের প্রভাব: পোশাকশিল্পে বড় ক্ষতির শঙ্কা, স্বাভাবিক হচ্ছে কার্যক্রম

চট্টগ্রাম বন্দর, ৭ ফেব্রুয়ারি – চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক ও কর্মচারীদের টানা ছয় দিনের ধর্মঘটে দেশের তৈরি পোশাকশিল্প খাত বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
আন্দোলনের ফলে বন্দর সংশ্লিষ্ট ১৯টি বেসরকারি ডিপোতে রপ্তানি পণ্যবোঝাই প্রায় ১৩ হাজার টিইইউএস কনটেইনার আটকা পড়ে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাকশিল্পের পণ্য। জাহাজে পণ্য ওঠানামা ও লোডিং আনলোডিং বন্ধ থাকায় এসব কনটেইনার নির্ধারিত সময়ে জাহাজীকরণ করা সম্ভব হয়নি। ধর্মঘট স্থগিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলেও রপ্তানিকারকরা বলছেন, এই জট ও ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। যথাসময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পাঠাতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে রপ্তানি আদেশ বাতিলের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানান, বন্দরের অচলাবস্থায় তৈরি পোশাকশিল্পের যে ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা কঠিন। তবে আর্থিক ক্ষতির চেয়েও বড় ক্ষতি হয়েছে দেশের ভাবমূর্তির। বিদেশি ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এবং নতুন অর্ডার দিতে চাইছেন না। অন্যদিকে চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য পৌঁছাতে না পারলে ক্রেতারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, যা মালিকপক্ষের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনে।
এদিকে বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, ধর্মঘট স্থগিতের পর থেকে জাহাজ চলাচল, লোডিং আনলোডিং ও পণ্য ডেলিভারি কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। গত সকাল পর্যন্ত ২৫টি মাদার ভেসেল চলাচল করেছে এবং জেটিতে নতুন জাহাজ ভিড়েছে। ইয়ার্ডে কনটেইনারের চাপ কমাতেও কাজ চলছে। অন্যদিকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনরত ও পরবর্তীতে বদলি হওয়া ১৫ কর্মচারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো চিঠিতে তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তদন্তের অনুরোধও জানানো হয়েছে। অভিযুক্তদের মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এস এম/ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









