কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসছে অসংখ্য মৃত জেলিফিশ, বাড়ছে উদ্বেগ

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, ৪ ফেব্রুয়ারি – পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ভেসে আসছে অসংখ্য মৃত জেলিফিশ।
মঙ্গলবার সকালে তিন নদীর মোহনা, চর বিজয়, গঙ্গামতির চর, লেবুর বন, কাউয়ার চর ও ফাতরার বনসহ সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে এসব মৃত জেলিফিশ পড়ে থাকতে দেখা যায় যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেও কিছু জেলিফিশ ভেসে এসেছিল তবে এবারের জেলিফিশগুলোর আকার বেশ বড় এবং সংখ্যায় অনেক বেশি।
পরিবেশ ও মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলার ও চিংড়ি আহরণের জাহাজের জালে আটকা পড়ে এসব জেলিফিশ মারা যেতে পারে। মৃত জেলিফিশগুলো পরবর্তীতে জোয়ারের পানির তোড়ে সৈকতে ভেসে আসছে। এছাড়া সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, লবণের তারতম্য এবং অক্সিজেনের অভাবকেও মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন তারা। অন্যদিকে জেলেদের ধারণা, সাগরের পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা এবং স্রোতের বিপরীতে চলতে না পারার কারণে জেলিফিশগুলো মারা যাচ্ছে। জেলেদের দৈনন্দিন মাছ শিকারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
জালে মাছের পরিবর্তে বিপুল পরিমাণ মৃত জেলিফিশ উঠে আসায় জাল তোলা কষ্টকর হয়ে পড়েছে এবং জালের ক্ষতি হচ্ছে। জেলিফিশের সংস্পর্শে জেলেদের শরীরে চুলকানি বা জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু জানান, অপরিকল্পিত ট্রলিং ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। কুয়াকাটার ডলফিন রক্ষা কমিটির সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার উল্লেখ করেন যে, জেলিফিশ সামুদ্রিক খাদ্যচক্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এদের অস্বাভাবিক মৃত্যু ডলফিনসহ অন্যান্য প্রাণীর জন্য হুমকি।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম এ ঘটনার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবসৃষ্ট কারণকে দায়ী করেছেন।
এস এম/ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









