১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারেক রহমান স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে: টাইম ম্যাগাজিন

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি – আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সুস্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে পত্রিকাটি এই অভিমত ব্যক্ত করেছে। তারেক রহমানের একান্ত সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি ওই নিবন্ধে উল্লেখ করা হয় যে আঠারো মাস আগে ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে তিনি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
টাইম ম্যাগাজিনের মতে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ধারা এবং তরুণ বিপ্লবীদের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন রচনা করতে সক্ষম হয়েছেন। দীর্ঘ এক দশক ধরে স্থানীয় গণমাধ্যমে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। সতেরো বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর তিনি টাইম ম্যাগাজিনকে তার প্রথম সাক্ষাৎকারটি দেন।
পারিবারিক বাসভবনের আঙিনায় বসে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে দলের কর্মীদের সমর্থনের ফসল হিসেবে উল্লেখ করেন। গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় লাখো সমর্থক তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। তবে এর মাত্র পাঁচ দিন পরেই তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। মায়ের মৃত্যুতে শোকাহত তারেক রহমান অশ্রুসিক্ত চোখে নিজের দায়িত্ব পালনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
টাইম ম্যাগাজিনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে যে দেশের মানুষ তাকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে পরিচালিত এক জনমত জরিপে বিএনপির প্রতি প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের সমর্থন দেখা গেছে যেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ১৯ শতাংশ। ব্যক্তিগত জীবনে মৃদুভাষী ও অন্তর্মুখী স্বভাবের তারেক রহমান লন্ডনের রিচমন্ড পার্কে হাঁটতে এবং ইতিহাসের বই পড়তে পছন্দ করতেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দেশের উন্নয়নে তার পরিকল্পনার কথাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
পানি ব্যবস্থাপনায় ১২ হাজার মাইল খাল খনন এবং ভূমিক্ষয় রোধে বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার। এছাড়া রাজধানীর পরিবেশ রক্ষায় ৫০টি নতুন সবুজ উদ্যান নির্মাণ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তিনি। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের সংস্কারেও তার সুনির্দিষ্ট ভাবনা রয়েছে। তারেক রহমান বিশ্বাস করেন যে তার পরিকল্পনার অন্তত ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পারলেই জনগণ তার পাশে থাকবে। উল্লেখ্য যে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি কারাগারে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন যার ফলে মেরুদণ্ডের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় তিনি আজও ভুগছেন।
এস এ এস /২৯ জানুয়ারি ২০২৬









