পশ্চিমবঙ্গ

আজও বিনিময় প্রথায় চুল-দাড়ি কাটাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ

কলকাতা, ২৪ মার্চ – টাকা-পয়সা নিয়ে নয়, বিনিময় প্রথায় আজো চুল দাড়ি কাটাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষজন। আধুনিকতার যুগে যখন নতুন নতুন প্রযুক্তি উন্নত থেকে উন্নততর অভিমুখে যাত্রা করছে, ঠিক তখনই মানুষ ঐতিহ্য বাঁচাতে পুরোনো প্রথার ওপর ভরসা রাখছেন বাংলার এক প্রত্যন্ত গ্রাম।

পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার হাঁসখালী থানার বেতনা লোকনাথপুরের বাসিন্দা প্রকাশ প্রামাণিক (৪৫)। স্ত্রী শম্পা ও ছেলে শান্তুনু প্রামাণিককে নিয়ে ছোট্ট কুঁড়েঘরে বসবাস করেন তিনি। তার হাত ধরেই বহু প্রাচীন বিনিময় প্রথাকে বাঁচিয়ে রেখেছে ওই এলাকার মানুষ।

প্রকাশের বাবা ছিলেন কানাই প্রামাণিক, গ্রামের একমাত্র খৌরকার। তিনি পুরো গ্রামের পরিবারকে বিনিময়ের মাধ্যমে চুল, দাড়ি ও যাবতীয় খৌরকর্মের কাজ করতেন। তিনি মারা যাওয়ার পর ছেলে প্রকাশ সংসারের হাল ধরে রেখেছেন বাবার পথ অনুসরণ করে। বাবার আদি ব্যবসাকে সম্মান জানিয়ে বাজারে কোনো সেলুন না খুলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চুল-দাড়ি কেটে দেন বিনিময়ের চুক্তিতে।

বিনিময়ে পান ফসল উঠলে ধান-চাল-সরিষা। এই ভাবেই সংসার চালান তিনি। নিজের ছেলেকে নিদারুণ কষ্টের মধ্য দিয়ে পড়াশুনা করাচ্ছেন। শান্তুনু বগুলা শ্রীকৃষ্ণ কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

গ্রামের আদেশ কুমার বিশ্বাস জানান, ‘কাজের বিনিময়ে টাকাপয়সার বিষয়ে প্রকাশের কোনো চাহিদা নেই। তাই ফসল উঠলেই আমরা ন্যায্যমতো ফসল দিই।’

গ্রামের বিরেন প্রামাণিক অসুস্থ হলেও গ্রামের এমন চলমান প্রথায় বেশ খুশি। তিনি বলছেন, প্রকাশের দাদুর আমল থেকে বিনিময় প্রথায় চুল-দাড়ি কেটে আসছে তিনি ও তার পরিবার। প্রতিবেশীরা খুশি হলেও বিপাকে পড়েছেন বাবুর স্ত্রী শম্পা প্রামাণিক।

দীর্ঘ সাংসারিক জীবনে স্বামীর পেশাগত রোজগার পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নিলেও নগদ টাকার অভাবে নিত্যদিন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। পারিবারিক প্রথা স্বামী এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এমন পরিস্থিতিকে তিনি সম্মান জানালেও একমাত্র ছেলেকে শিক্ষক হিসাবে দেখতে চান তিনি।

এদিকে প্রকাশ প্রামাণিক বলছেন, মাঝে মাঝে মনে হয় আর হয়তো বেশি দিন এভাবে চলতে পারব না। বাড়ি থেকে বেরোলেই নগদ টাকা খুব প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কিন্তু এই পথে জীবিকা নির্ধারণ করার আলাদা একটা তৃপ্তি কাজ করে।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/২৪ মার্চ ২০২২


Back to top button
🌐 Read in Your Language