রূপচর্চা

বয়স্ক ত্বকের সমস্যাগুলোর সহজ সমাধান!

বয়সের সাথে সাথে কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে মানুষের শরীরে আসে যথেষ্ট পরিবর্তন। আর এই পরিবর্তনের বেশিরভাগটাই পড়ে শরীরের ত্বকের ওপর। মূলত, আমাদের ত্বক হচ্ছে শরীরের সেই অংশ যেটা কিনা বাহ্যিক যাবতীয় ধুলো, ময়লা, আঘাত আর নানারকম ক্ষতিকর ব্যাপারগুলোকে প্রথমে মোকাবেলা করে। আর তাই সময়ের সাথে সাথে এর রঙ, চকচকেভাবসহ আরো নানারকম সৌন্দর্য কমে যেতে থাকে। ফলে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখতে পাই আমরা আমাদের ত্বকে। চলুন দেখে আসি সেই পরিবর্তন আর একে মোকাবেলা করার উপায়গুলোকে।

১. শুষ্কতা
বয়সের সাথে সাথে ত্বকের শুষ্কতা বেড়ে যায়। আমাদের ত্বকের সজীবভাগ ধরে রাখার জন্যে মূলত কিছু হরমোন দায়ী। কিন্তু বয়সের সাথে সাথে সেগুলো কাজ করা কমিয়ে দেয় আর বাড়িয়ে দেয় আমাদের ত্বকের শুষ্কতা, ফেটে যাওয়া বা কোঁচকানোর প্রবণতা। তবে একে প্রতিরোধের জন্যে রয়েছে বেশ কিছু উপায়।

সমাধান

ক. ময়েশ্চারাইজার
গোসলের পরপরই নিজের শরীরে মেখে নিন ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার। এছাড়াও সেই সাথে ভিটামিন এ যুক্ত ক্রিম ব্যবহারেরও চেষ্টা করুন (হাউ স্টাফ ওয়ার্কস)। এতে করে ত্বক থাকতে সজীব ও সতেজ। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখুন যে, আপনার ২০ বছর বয়সে ত্বকে ব্যবহার করা ময়েশ্চারাইজারটি কিন্তু ৩০ বছর বয়সে গিয়ে খুব একটা কাজে আসবে না (ডেইলি মেইল)।

খ. খাদ্যাভ্যাস
খাবার খাওয়ার সময় ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ গ্রহন করুন। খাদ্যতালিকায় রাখুন কমলা, ডিম ও গাজরসহ ভিটামিন এ যুক্ত খাবারগুলো। তাতে করে ভেতর থেকেও ত্বকের যথেষ্ট সাহায্য হবে।

২. পাতলা হয়ে যাওয়া
বয়স বাড়লে মানুষের ত্বক অনেক বেশি পাতলা হয়ে যায়। না, এটা একেবারেই মনগড়া কোন কথা নয়। সত্যিই খেয়াল করে দেখবেন এট সত্যিই হয়ে থাকে। ফলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে ত্বকের রঙে পরিবর্তন আসে। অনেক বেশি ফ্যাকাসে দেখা যায় সেটা। সেই সাথে দেখা যায় ত্বকের ওপাশে থাকা শিরা আর রগগুলোকেও স্পষ্টভাবে। এ সমস্যা থেকে দূরে থাকার উপায়? দেখে নিন।

সমাধান
ক. স্নেহ পদার্থ গ্রহন
আমাদের শরীরের ত্বক অনেক বেশি পাতলা হয়ে যায় বেশকিছু কারণে। কখনো ত্বকের ঠিক নীচেই থাকা চর্বি কমে যাওয়ার কারণে, কখনো আবার জেনেটিক বা অতিরিক্ত ঔষধ নেবার কারণে। তবে কারণ যেটাই হোক, ত্বককে পাতলা হয়ে যাওয়ার হাত থেকে মুক্ত রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্নেহ পদার্থ গ্রহণ করুন।

খ. সানস্ক্রীন ক্রিম
সানস্ক্রীন ক্রিম আমাদের ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে। যেটা কিনা ত্বকের পাতলা হয়ে যাওয়ার জন্যে অনেকটাই দায়ী। তবে এর সাথে খানিকটা ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার আরো বেশি সুরক্ষিত রাখে ত্বককে।

৩. চামড়া ঝুলে যাওয়া
বয়স হলে যেহেতু চামড়া পাতলা হয়ে যায়, ফলে সেটা ঝুলে পড়াটা বেশ স্বাভাবিক। এছাড়াও বয়স বাড়লে ওজন কমে যায়। আর এই কমে যাওয়া ওজন প্রভাব ফেলে ত্বকে। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে এস্ট্রোজেনের উৎপাদন কমে যাওয়ায় এ সমস্যাটা বেশি দেখা যায়।

সমাধান
এর খুব একটা সমাধান না থাকলেও প্রয়োজনে খুব আগে থেকেই অতিরিক্ত সচেতন হয়ে নিজের ত্বককে সুন্দর রাখতে পারেন আপনি কিছুটা হলেও। এক্ষেত্রে অনেকে পরামর্শ দেন চিকিৎসকের মাধ্যমে ত্বককে ঠিক রাখার। তবে এই অত্যাধিক ব্যয়বহুল ব্যাপারটির পাশাপাশি আপনি মাথায় রাখতে পারেন চামড়া পাতলা হয়ে যাওয়া প্রতিরোধের উপায়গুলোও।

৪. ফোঁটা ফোঁটা দাগ
বয়সের সাথে সাথে শরীরের নানা স্থানে দাগ দেখা যায়। সেটা কালো, বাদামী, ছাইরঙাসহ আরো নানা রঙের হতে পারে। তবে যে রঙেরই হোক না কেন, শরীরে তাকে পাওয়া যাবেই। মূলত, সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মির কারণেই এই বয়সের চিহ্নটি সৃষ্টি হয় আমাদের দেহে।

সমাধান
এক্ষেত্রে প্রথমেই খেয়াল করুন দাগটি কেমন দেখতে। যদি সেটা কালো ও অনিয়মিত আকৃতি নেওয়া কোনকিছু হয় তাহলে খুব তাড়াতাড়ি চিকিৎসককে দেখান। আর সেটা না হলে ব্লিচিং এর সাহায্য নিতে পারেন। সেই সাথে চেষ্টা করে দেখতে পারেন লেজার থেরাপিও!

Back to top button