সিরিয়ায় ৯৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী আসাদ

দামেস্ক, ২৮ মে – সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে আবারও জয়ী হয়েছেন বাশার আল-আসাদ। এই নির্বাচনে আসাদ ৯৫ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
অবশ্য বিরোধীরা ‘প্রহসন’ আখ্যায়িত করে এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে।
সংবাদমাধ্যম জানায়, দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ঘোষিত ফলাফলে বাশার আল-আসাদ ৯৫ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
নির্বাচনে ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। অপর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুল্লাহ সালৌম আবদুল্লাহ ও মাহমুদ আহমেদ মারি পেয়েছেন যথাক্রমে ১ দশমিক ৫ শতাংশ ও ৩ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট।
সিরিয়ার বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচনকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যায়িত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো বলেছে, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না।
এদিকে বুধবার ভোট দিয়ে বাশার আল-আসাদ বলেছেন, পশ্চিমাদের মতামত ‘শূন্য’ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
প্রায় দশ বছরের গৃহযুদ্ধে সিরিয়া এখন বিপর্যস্ত। ২০১১ সালে বাশার আল-আসাদের সরকারের বিরুদ্ধে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সরকারি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে এ গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।
এ লড়াইয়ে প্রায় তিন লাখ ৮৮ হাজার মানুষ মারা গেছে। দেশটির প্রায় অর্ধেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এর মধ্যে বিদেশে শরণার্থী শিবিরে আছে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ।
এবারের নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে মূলত সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এবং বিদেশে সিরিয়ার কিছু দূতাবাসে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রতিবাদ হয়েছে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিব প্রদেশে।
পঞ্চান্ন বছর বয়সী বাশার আল-আসাদ ২০০০ সাল থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তার বাবা হাফিজ আল-আসাদ প্রায় ২৫ বছর সিরিয়া শাসন করেছেন।
দেশজুড়ে লড়াইয়ের মধ্যে ২০১৪ সালে সেখানে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচন বিরোধী দলগুলো বর্জন করেছিল।
এরপর থেকেই যুদ্ধ পরিস্থিতি বাশার আল-আসাদের অনুকূলে যেতে থাকে। রাশিয়ার বিমান হামলা আর ইরানের সামরিক সহযোগিতায় বড় শহরগুলোতে সরকারি বাহিনী আবারও নিয়ন্ত্রণ স্থাপনে সক্ষম হয়।
তবে দেশটির বড় একটি অংশ এখনো বিদ্রোহী, জিহাদি ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান এখনো দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র : দেশ রূপান্তর
এন এইচ, ২৮ মে









