‘এবারও আমরা ঢাকাবাসীকে ডেঙ্গুর প্রকোপ হতে মুক্তি দিতে সক্ষম হবো’

ঢাকা, ১৯ মে– চলতি মৌসুমে ঢাকাবাসী ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে মুক্ত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। গতকাল ডিএসসিসির নগর ভবনে বিগত এক বছরের সার্বিক কার্যক্রম ও অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত “উন্নত ঢাকার ভিত রচনা” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে শেখ তাপস এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গত ১৬ মে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্ণ করেন তাপস। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নতুন কর্মস্পৃহা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আমরা আমাদের বিস্তৃত কর্মযজ্ঞ শুরু করেছিলাম এবং তারই ধারাবাহিকতায় আমরা এগিয়ে চলেছি। আমাদের কর্মপরিকল্পনায় প্রথমেই আমরা জনগণের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করি এবং করোনা মহামারির মাঝেই যাতে নগরবাসীকে ডেঙ্গুর পীড়াদায়ক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে না হয় সেজন্য আমরা শুরু থেকেই মশক নিয়ন্ত্রণ এর উপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছি। পাশাপাশি মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে নতুন করে ঢেলে সাজিয়েছি। ফলে গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা দক্ষিণে কোন প্রাণহানি হয়নি। এ বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কিউলেক্স মশকের উপদ্রব কিছুটা বাড়লেও আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে আমরা দুই সপ্তাহের মধ্যেই কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আশাবাদী, গত মৌসুমের ন্যায় এবারও আমরা ঢাকাবাসীকে ডেঙ্গুর প্রকোপ হতে মুক্তি দিতে সক্ষম হবো।
মেয়র বলেন, আমরা ওয়ার্ড ভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহকারী নিবন্ধন দিয়েছি এবং ওয়ার্ড-ভিত্তিক বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আমার দায়িত্ব গ্রহণকালে বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র ছিলো ২১টি। আমার দায়িত্ব পালনকালে নতুন নতুন ৬টি বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণ করেছি। ২০২১ সালের মধ্যেই আমরা ৭৫টি ওয়ার্ড ৭৫টি বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারব এবং উন্মুক্ত স্থান হতে সম্পূর্ণরূপে বর্জ্য নির্মূল করতে পারব বলে আমি আশাবাদী।
শেখ তাপস আরো বলেন, নতুন আঠারোটি এলাকার কিছু অংশ বাদে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পুরো এলাকায় এখন সড়কবাতি জ্বলছে। সেই ১৮টি ওয়ার্ডের যেসব এলাকায় সড়ক বাতি নেই নতুন একটি প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা সেখানে বাতি লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি এবং বর্তমানে আমাদের বিদ্যমান এলাকায় কোথাও সড়ক বাতি নিয়ে অভিযোগ থাকলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
আগামী বর্ষা মৌসুমে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিয়ে মেয়র বলেন, গত বছর খালের দায়িত্ব হাতে পেয়েই আমরা দুটি বক্স কালভার্ট ও চারটি খাল থেকে বর্জ্য ও পলি অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছি। একইসাথে সেসব খালের সীমানা নির্ধারণ এবং অবৈধ দখলে থাকা জায়গা পুনরুদ্ধার করেছি। এ পর্যন্ত খাল ও বক্স কালভার্টগুলো থেকে আমরা ১০ লাখ টন পলি ও বর্জ্য অপসারণ করেছি। ফলে খালে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও আমরা জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ১০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব অর্থায়নে বেশকিছু অবকাঠামো উন্নয়ন করে চলেছি। এসব কার্যক্রম এই অর্থবছরে শেষ হবে বলে আমরা আশা করছি। তাই, আমাদের সার্বিক কর্মকাণ্ডের ফলে এই বর্ষায় আমরা ঢাকাবাসীকে জলাবদ্ধতার কবল হতে বহুলাংশে মুক্তি দিতে পারব বলে আমি মনে করি।
সূত্র: কালের কণ্ঠ
এম এন / ১৯ মে









